দুর্ভোগ বাড়ছে গাইবান্ধার বন্যা কবলিত পানিবন্দী মানুষের

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, করতোয়া, ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় ঘাঘট নদীর পানি ২৩ সে.মি. ব্রহ্মপুত্র ১৮ সে.মি. ও করতোয়া ১২ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবকটি নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি ৪ সে.মি. কমছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির পেয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে এখন বিপদসীমার ৯ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এতে ফুলছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২২টি গ্রামে নতুন করে পানি উঠতে শুরু করেছে।

পানি উঠার কারণে এসব এলাকার মানুষ এখন খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যা কবলিত গ্রামগুলো হচ্ছে- ফজলুপুর ইউনিয়নের কাউয়াবাঁধা, পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর, চন্দনস্বর, পশ্চিম খাটিয়ামারী, উত্তর খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের তিনথোপা, পাগলার চর, বুলবুলি, উত্তর হরিচন্ডি, পশ্চিম ডাকাতির চর, আলগার চর, পশ্চিম জিগাবাড়ী, ধলি পাটাধোয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া, গলনা, ভাজনডাঙ্গা, উড়িয়া ইউনিয়নের কালাসোনা, কাবিলপুর, রতনপুর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি ও পূর্ব কঞ্চিপাড়া।

ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল জানান, নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানো পশ্চিম গাবগাছি, উত্তর খোলাবাড়ি ও বাজে ফুলছড়ি গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে কাজ কর্ম না থাকায় খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতাও বেড়েছে। পানি তোড় ও বৃষ্টির ফলে জেলার ১০টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকীর মধ্যে পড়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছুই ছুই করছে, পানি বৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ১২ ঘন্টার মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে বলে আশস্কা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ জানান, জেলার বন্যা কবলিত চার উপজেলার পানিবন্দী মানুষের খোঁজখজবর নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা ও নদীভাঙন কবলিতদের মাঝে ৫০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ ৪ লাখ টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •