চপার বাইক তৈরী করলো ঠাকুরগাঁওয়ের জামিউল হাসান
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল নিজের একটা বাইক হবে আর এই স্বপ্ন পূরনের লক্ষ্যেই কাজ শুরু করে ঠাকুরগাঁওয়ের জামিউল হাসান শুভ। নিজের ব্যবহারের জন্য অল্প খরচেই বাবার পরিত্যক্ত ভেসপা মটরসাইকেলের ইঞ্জিন খুলে মডিফাই করে নতুন মডেলের চপার বাইক উদ্ভাবন করে অবিশ্বাস্য এ কাজকেই সম্ভব করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিল শুভ।
সে ঠাকুরগাঁওয়ের গোবিন্দনগর মুন্সির হাট গ্রামের মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক হাসান আলীর ছেলে। শুভ ঠাকুরগাঁও সরাকাররি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।
জামিউল হাসান শুভ, জানান গাড়িটির বিশেষত্ব হল এটি রাস্তায় অন্যান্য বাইকের মতোই খুব সহজেই চালানো যায়। হেন্ডেল ও ব্রেক কন্ট্রলিং খুব ভাল।
তিনি আরও জানান, ভেসপা ইঞ্জিনে সাধারনত হাতে গিয়ার হয় সেটাকে মডিফাই করে আমি পায়ে গিয়ার করেছি। আর পেছনের পিকাপের টায়ার সেট করেছি । চন দেয়া হয়েছে দুটি। যা এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি তৈরি করতে পারেনি। এ কারনেই ব্যান্ডের গাড়ির চেয়ে বেশি গতিতে চলবে আমার এই বাইক । পাড়ি দেবে বেশি পথ।’
আর জ্বালানি খরচ হবে কম আমরা কমবেশি সবাই জানি যে জ্বালানি বেশি খরচ হওয়ায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আমার এই গাড়িতে যেহেতু কম জ্বালানি ব্যয় হবে, তাই পরিবেশের ক্ষতি হবে কম। পরিবেশবান্ধব এমন গাড়ি তাই জনপ্রিয় হওয়া স্বাভাবিক।’
তার বাবা হাসান আলী জানান, এই উদ্ভাবন এর জন্য তিনি গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে সে আরও ভাল কিছু করবে। ছোট বেলা থেকেই সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা তার। এর আগেও ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলায় পোকা মারার যন্ত্র আবিষ্কার করে প্রথম স্থান অধিকার করে সে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট মটর সাইকেল ব্যবসায়ী শামীন অটোর মালিক শামীম হোসেন জীবন এ সাইকেলটি দেখতে আসেন শুভর বাসায়। এসময় তিনি বলেন, আমি বিশ^াস করতে পারিছি না যে আমাদের ঠাকরগাঁওয়ে এমন প্রতিভা রয়েছে। আমি কয়েকটা ছবি তুলে বিভিন্ন কম্পানিতে পাঠাবো।
স্বপ্নবান এই তরুন খুব সংগত কারণেই এখন ভীষণ আশাবাদী। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হবে বাংলাদেশের গাড়ি প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। অচিরেই হয়তো এই প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি করবে এমন সব বাইক। কেননা, সে মনে করছেন, তাঁর উদ্ভাবিত এই গাড়ির রয়েছে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য, যা গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই আকৃষ্ট করবে।
শুভ জানান, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি আরও আধুনিক মানের চপার বাইক তৈরি করতে পারবেন।
নিজেদের উদ্ভাবিত গাড়ির গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন দীর্ঘ ৮ মাস রাত-দিন একাকার করে সে এই নতুন মডেলের বাইক দাঁড় করিয়েছেন। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট এসব নিত্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে পড়ে ছিলেন এই বাইক তৈরীতে। সে জানায় অনেক দিন সারা রাত কাজ করেছি ।’ কখন যে ভোর হয়েছে বলতেই পাড়িনি।
এখন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা আশা করেন এই স্বপ্নবান তরুণ। সে বিশ্বাস করেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশকে আর উচ্চমূল্যে কর দিয়ে বিদেশ থেকে বাইক আমদানি করতে হবে না। দেশেই তৈরি হবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উন্নত মানের বাইক। একদিন বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায় ছুটে চলবে স্টাইলিস উন্নত মানের এই চপার বাইক।


