শুভ জন্মদিন প্রিয় বাকৃবি

শাহরিয়ার মনির:
এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, বাকৃবির ৫৬তম জন্মদিন এবং ৩৫তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ……….

আজ দেশের একঝাক তরুণ তাদের রেজাল্ট পেল। তোমাদেরকে আজ অভিনন্দন দিব না। কেননা এইচ এস সি পরীক্ষার ভাল রেজাল্ট করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কোন ভাল প্রতিষ্টানে চান্স পাওয়া। মেডিকেল – ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার পর কেউ আর তোমাকে জিজ্ঞেস করবে না তোমার রেজাল্ট কি। সবাই জানতে চায়বে তুমি কোন মেডিকেল বা ভার্সিটিতে চান্স পায়ছ। তুমি যদি কোন ভাল প্রতিষ্টানে চান্স না পাও তাহলে তোমার ভাল রেজাল্টাও অনেকটা মলিন হয়ে যাবে।এইচ এস সির রেজাল্টের রেশ থাকে বড়জোর তিন মাস।যারা আজ ভাল রেজাল্ট করেছ, তোমরা উৎসবে গা ভাসিয়ে না দিয়ে আরো মনোযোগী হয়ে ভাল প্রতিষ্টানে চান্স পাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নাও। তোমরা যাতে ভাল কোন প্রতিষ্টানে চাও সেই শুভকামনা রইল। ভাল প্রতিষ্টানে যারা চান্স পাবে তোমাদের জন্যে রইল অগ্রিম অভিনন্দন।

আমাদের দেশে আমরা ভাল প্রতিষ্টান বলতে শুধু বুয়েট, মেডিকেল, ঢাবিকেই বুঝি।সবার জীবনেরই স্বপ্ন থাকে এই প্রতিষ্টানগুলোতে পড়ার। যারা এই প্রতিষ্টানগুলোতে চান্স পায় না তারা বাধ্য হয়ে অন্যান্য প্রতিষ্টানে ভর্তি হয়। অন্যান্য প্রতিষ্টানগুলোতে বাধ্য হয়ে ভর্তি হওয়া প্রতিষ্টানের মধ্যে বাকৃবি অন্যতম।বাকৃবিতে পড়ে কৃষিবিদ হবে এমন স্বপ্ন খুব কম সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদেরই থাকে। বর্তমানে যারা বাকৃবিতে পড়ে তাদের অনেকেই বুয়েট, মেডিকেল বা ঢাবিতে ভাল সাবজেক্ট না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাকৃবিতে পড়ছে।

যারা বাকৃবিতে পড়ছে তারাই জানে বাকৃবিতে পড়তে পারলে ক্যারিয়ার কেমন হয়। চাকরীতে সুযোগ সুবিধা কেমন তা বাকৃবিতে পড়ুয়ারা ছাড়া খুব কম মানুষই জানে। এর ফলে কারো স্বপ্নও থাকে না বাকৃবিতে পড়ার।

বাকৃবি তাঁর ৫৫ বছর শেষ করে ৫৬ বছরে পদার্পন করছে। আজ বাকৃবির ৫৬তম জন্মদিন। গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে, বাকৃবিতে যারা পড়েছে বা কৃষিবিদ তাদের কেউয়েরই ক্যারিয়ার প্রথম শ্রেণীর নিচে না। সবাই ই ফার্স্ট ক্লাস। বাকৃবির কৃষিবিদদের অবদানের ফলেই দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। আজ দেশ নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও খাদ্য রপ্তানি করছে। যা একসময় ছিল স্বপ্নের মত।এই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছে বাকৃবির কৃষিবিদরাই। কৃষিবিদরা শুধু যে কৃষির উন্নয়ন করছে তা নয়।কর্পোরেট চাকরী, সরকারি চাকরি, ব্যাংকে চাকরিসহ সর্বক্ষেত্রেই বাকৃবি গ্র্যাজুয়েটদের জয় জয়কার। তাই কৃষিবিদরা কোন অংশেই ডাক্তার, ইন্জিনিয়ারদের চেয়ে কম নয়। বাকৃবির আজ ৫৬ তম জন্মদিনে বাকৃবির একজন ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত।

আচ্ছা ভাল প্রতিষ্টানে পড়ুয়া বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীদেরই তো স্বপ্ন থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সবাই ই চাই বিসিএস ক্যাডার হয়ে জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে। কয়জনই বা সে সুযোগ পায়। তবে হ্যাঁ আমার ক্যাম্পাসে পড়ুয়া অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীই সে সুযোগটা অন্যান্য প্রতিষ্টানে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের চেয়ে আনুপাতিক তুলনায় বেশি পেয়ে থাকে। গতকালে ৩৫তম বিসিএসের ফলাফল তাই প্রমাণ করে। ট্যাকনিক্যাল ও জেনারেল ক্যাডার মিলিয়ে ৩৫তম বিসিএসের ফলাফলে আমার ক্যাম্পাসেরই ২০০ অধিক। বাকৃবির ৫৬ তম জন্মদিনে বিশাল উপহার। এই উপহার প্রতিটা বিসিএসে কৃষিবিদরা বাকৃবিকে দিয়েই যাচ্ছে।

আর সরকারি, বেসরকারিসহ বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্টানের চাকরির সুযোগ তো শুধু কৃষিবিদদেরই। এই সব ক্ষেত্রেও মর্যাদা প্রথম শ্রেণীর। যারা আজ ভাল রেজাল্ট করেছ তোমরা ভাল প্রতিষ্টান বলতে কি বুঝ সেটা আজই সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও। শুভ জন্মদিন প্রিয় বাকৃবি। সাফল্যের ৫৫ বছর পেরিয়ে ৫৬ তে। এমন শত শত বছর তুমি সাফল্যের সাথেই এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি।

যে সকল বড় ভাই-আপুরা ৩৫তম বিসিএসে ক্যাডার হয়ে বাকৃবিকে জন্মদিনের বিশাল উপহার দিয়েছেন, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন এবং শুভকামনা।

______________________________

লেখা: শাহরিয়ার মনির

শিক্ষার্থী,

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: