জাবিতে ছাত্রলীগ নেতার কক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলে এক ছাত্রলীগ কর্মীর কক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই ছাত্রের দাবি হলের এক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ নেতা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে তিনি গোপন সূত্রে জানতে পারেন ৩২০ নম্বর কক্ষে মাদকদ্রব্য আছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি ওই কক্ষে ওয়ার্ডেন ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে দুপুর একটার সময় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন।
এদিকে রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা জানায়, হাশেম রেজা গত দুই বছর ধরে রাজনীতিতে স্বক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীকের হাত ধরে তিনি রাজনীতিতে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে সে হলের জুনিয়রদের কাছে অনীকের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হওয়ায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের ৪০ তম আবর্তনের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী হাশেম রেজা বলেন, এ ঘটনা সত্য আমি দুই বছর যাবৎ রাজনীতে স্বক্রিয় হয়েছি। আমার ৪ জনের রুমে সবসময় লোকজন আসা-যাওয়া করে। এখন রাজনীতিতে জনপ্রিয় হওয়ায় আমার বন্ধুই আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমি অনীকের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।
এ বিষয়ে শহীদ রফিক-জব্বার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নওশাদ আলম অনিক বলেন, হাশেম রেজা ছাত্রলীগের রাজনীতিই করে না, আমার প্রতিহিংসার স্বীকার হবে কেন? সে বিভাগের মেধাবী ছাত্র, আমি সবসময় তার শুভাকাঙ্খী।
শহীদ রফিক-জব্বার হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঠুন কুমার কুন্ডু বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যদি হাশেম রেজা দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিকে সাধুবাদ জানাই। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন বলেন, আমরা ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তাদেরকে ৩ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

