রাবিতে ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন দিবস পালিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন’ দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার দিবসটি উপলক্ষে মানববন্ধন, র্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রদের সঙ্গে সেনা সদস্যদের সংঘর্ষ বাধে। সেসময় অনেক ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দিন শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশে সংঘর্ষে অন্তত কয়েকশ জন আহত হন। এরপর থেকে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন’ দিবস পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হকের সঞ্চালনায় সভায় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, একটা পক্ষ সবসময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে কীভাবে একটা পক্ষ ক্ষমতায় এসেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও আমরা এই প্রবণতা দেখেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরর নাম করে তারা দুই বছর শাসন করেছিল। আর সেই অগণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের মতো বর্বোচিত ঘটনা ঘটেছিল।
উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সংকট আসলে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে আসা অন্যায়, অত্যাচার রুখে দিতে হবে। আবার জাতীয় সংকটগুলোকেও মোকাবিলা করতে হবে, যেমনটি ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক এক হয়ে আন্দোলন করেছিল।
এদিকে বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আয়োজনে সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে র্যালি বের করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। পরে র্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

