ছাত্রলীগ নেতার হুমকিতে রাবিতে পুলিশি নিরাপত্তায় পরীক্ষা
রাবি প্রতিনিধি:
ছাত্রলীগ নেতার হুমকির ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা পুলিশি পাহারায় গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া এক ছাত্রলীগ নেতা সোমবার বিভাগের সকল পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
‘ড্রপআউট’ হওয়া ছাত্র শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ছয় বছরের মধ্যে স্নাতক (সম্মান) শেষ করতে না পারায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়।
তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানা যায়, প্রথম বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১২ সালে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পরপর দুই বছর ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এরপর ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হন। কিন্তু ২০১৫ সালে তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হন। একই সঙ্গে নূন্যতম সিজিপিএ অর্জন করতে না পারায় চতুর্থ বর্ষে ভর্তির অযোগ্য বিবেচিত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছরের মধ্যে চার বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) কোর্স শেষ করতে হবে। সে হিসেবে চলতি বছর চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে চতুর্থ বর্ষে ভর্তির অযোগ্য হওয়ায় তাকে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।
সোমবার ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবকে নিয়ে বিভাগে যান। সেখানে ছাত্রলীগ নেতারা সাদ্দামকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতিকে চাপ দেন। এসময় বিভাগের সভাপতি সে সুযোগ দিতে নাকচ করেন। এতে সাদ্দাম ক্ষিপ্ত হয়ে বিভাগের সকল পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা পুলিশি পাহারায় গ্রহণ করা হয়েছে। এসময় বিভাগের বারান্দায় ও ভবনের সমানে পুলিশের টহল দিতে দেখা যায়।
জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি ড. পার্থ বিপ্লব রায় বলেন, ‘ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থী সোমবার বিভাগে এসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব নেই জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা বন্ধের হুমকি দেন। এ কারণে পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে হতে পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাই। প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।’
জানতে চাইলে মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) অশোক চৌহান বলেন, ‘ছাত্রলীগের এক নেতা পরীক্ষা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

