যোগাযোগ মন্ত্রীর ঘোষণার পরেও বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে গণবি’র শিক্ষার্থীরা
মো. রিফাত মেহেদী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিকট অবস্থিত দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছে ৬ হাজার শিক্ষার্থী। তার অধিকাংশই সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল এলাকার শিক্ষার্থী।
সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও তার পার্শবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজ বাসা থেকে এসেই ক্লাস করে। এছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাগুলো যেমন, মিরপুর, শ্যামলী, গুলিস্তান , উত্তরা থেকেও অনেক শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত ক্লাস করতে আসে। যারা নিয়মিত যানবাহন-যোগে যাতায়াত করছেন এমন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি যাদের প্রতিনিয়তই মানে নিতে হচ্ছে অনিয়ম, গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা বি.বি.এ. বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিমউদ্দিন অন্তর এ বিষয়ে বলেন, স্টুডেন্ট ভাড়া তো দূরে থাক, গাড়ীর স্টাফরা ন্যায্য ভাড়াও নেয়না। আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি বলে কোন মূল্যায়নই নেই এদের কাছে। কিছু বলতে গেলে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অন্তত দুটি বাস শিক্ষার্থীদের দেয় তবে এই সমস্যার কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করেন তিনি।
ধামরাই থেকে আসা ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মৌ অভিযোগের সুরে জানান, নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় গাড়ীতে। এমনিতেই অতিরিক্ত যাত্রী তুলে। এছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাড়া দ্বিগুণ। কিছু বলতে গেলে অশালীন আচরণ করে স্টাফরা। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তো ঘোষণা দিয়েই খালাস যে, স্টুডেন্টদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিতে হবে। এসব কি দেখছে না প্রশাসন?
গাজীপুর থেকে আসা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজল মাহমুদ বলেন, আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি বলে গাড়ীর স্টাফরা আমাদের মূল্যায়নই করে না। অথচ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলে ঠিকই হাফ-ভাড়া নিচ্ছে। তাহলে আমরা কি স্টুডেন্ট নই?
উল্লেখ্য, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব কোন বাস বা গাড়ির ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের অনেকদিনের দাবি কিছু সংখ্যক বাস শিক্ষার্থীদের জন্য দিলেও হররোজ হয়রানির শিকার হতে হত না।
অনেক শিক্ষার্থীর কণ্ঠেই শোনা যায়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রায়শই গাড়ি ভাঙচুর করে, বাস আটকে রাখে। তাই তাদের ভাড়া অর্ধেকের কম দিলেও চলে। কিন্তু আমরা এধরনের কাজ করিনা জন্যই কি আমাদের ভাড়া নিয়ে এই সমস্যা ?
বাংলাদেশের প্রধান ব্যস্ত সড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-আরিচা এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক দুটি অন্যতম। এ দুটি সড়কের পাশাপাশি সারা দেশেই শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে এমন অভিযোগ আছে অসংখ্য। কেবল প্রশাসনের একটু নজরদারি এবং নির্দিষ্ট আইন ব্যবস্থা পারে উক্ত সমস্যা সমাধান করতে।

