গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও সাঁওতালের সংঘর্ষ -আরও এক সাঁওতালের লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ (বাগদা-কাটা) এলাকার একটি ধান খেত থেকে সোমবার রাতে আরও অজ্ঞাত পরিচয় (৫২) এক আধিবাসীর (সাঁওতাল) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এরআগে, রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে আধিবাসীর (সাঁওতাল) ও কতিপয় দখলকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ৯ পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
এরমধ্যে গুলিবিদ্ধ আধিবাসী (সাঁওতাল) শ্যামল হেমভ্রম (৩৫) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। এনিয়ে পুলিশ ও সাঁওতালদের সংঘর্ষে দুই আধিবাসীর (সাঁওতাল) মৃত্যু হলো।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, উদ্ধার করা লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া মরদেহে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর কারণ যানা যাবে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে ৯ পুলিশ তীরবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কল্যাণ চক্রবর্তী বাদি হয়ে রোববার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে মুঠোফোনে বলেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমাদের মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদেরকে গুম করা হতে পারে বলে আমরা আশংকা করছি।
তিনি আরও বলেন, কারও উস্কানিতে আন্দোলন করা হচ্ছে না। চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে উল্লেখ ছিল কখনো ওইসব জমিতে আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওইসব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই দখলের ঘটনা ঘটে।

চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মুঠোফোনে বলেন, ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনো চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সেক্ষেত্রে ওইসব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে। অথচ এলাকার কতিপয় সুবিধাবাদি ব্যক্তির উস্কানিতে সাঁওতালরা অবৈধভাবে চিনিকলের জমি দখল করে।
প্রসঙ্গত: রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় ১৮৪২ একর জমি অধিগ্রহন করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুইবছর আগে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে আধিবাসী (সাঁওতাল) সম্প্রদায়ের লোকজন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা গত ১ জুলাই এই খামারের প্রায় ১০০ একর জমি আবাদী জমিতে ছোট ছোট কুড়ে ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালায়। ইতোমধ্যে তারা সেখানে ধান ও মাসকালাই চাষ শুরু করে। ওইদিন থেকে তারা তীর-ধনুক নিয়ে জমি পাহাড়া দিচ্ছে। রোববার চিনিকলের রোপন করা আখ বীজ হিসেবে সংগ্রহের জন্য কাটতে গেলে সাঁওতালরা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: