ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ যেন উৎসব

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
নিজেদের জমি নেই। বর্গা (অন্যের জমিতে চাষাবাদ) চাষাবাদ করাও হয়ে ওঠেনি। তাই বলে ফসল সংগ্রহের আনন্দ বঞ্চিত হতে চান না হতদরিদ্র মানুষ। দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুম শেষে ফসলের ক্ষেতে থাকা ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহে মেতে উঠেছেন তারা।

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ঝরে পড়া বা ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ যেন এক প্রকার উৎসব।

সরেজমিনে জানা যায়, ধান কেটে নেয়ার পর ফসলের মাঠ জুড়ে পড়ে রয়েছে ধান গাছের গোড়া। যা স্থানীয় ভাষায় নাড়া নামে পরিচিত। সেই নাড়ার ফাঁকে রয়েছে ঝরে পড়া সোনালি ধান। কীট-পতঙ্গের আক্রমণে অনেক ধানের শীষের শাখা-প্রশাখা ভেঙে মাটিতে পড়েছে। গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝি এবং ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে সেই ধান কুড়িয়ে নিচ্ছেন। কেউ হাতে ডালি, চালুন, কারো হাতে বাশিলা, ঝাটা আবার কেউ হাতে ব্যাগ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। অনেকের কাঁধে কোঁদাল আর কারো হাতে শাবল রয়েছে।

ছোট ছোট ছেলেদের দৃষ্টি কেবল গর্তে, নাড়ার ফাঁক দিয়ে মাটির দিকে ইঁদুরের কেটে নিয়ে যাওয়া ধান। ইঁদুরের গর্ত কিংবা ঝরে পড়া ধান দেখলেই ওদের চোখে-মুখে সোনালি হাসি ফুটে ওঠে। ইঁদুর কৃষকের ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে নিয়ে আপদকালীন খাদ্য হিসেবে মাটির নিচে গর্তে মজুদ করে রাখে। ধান কুড়ানিরা সেই গর্ত খুঁড়ে ইঁদুরের খাদ্য বের করে নেয়। এছাড়া মাটি থেকে একটি একটি করে ধান কুড়িয়ে মুঠোয় করে ডালায় ভরে। মৌসুমের পুরো সময়টায় তারা এভাবেই ধান সংগ্রহ করছেন। এ কাজের সঙ্গে গ্রামের অভাবী-হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন জড়িয়ে পড়েছেন। তারা প্রত্যেকে দৈনিক ৪/৫ কেজি করে ধান সংগ্রহ করছেন।

বিরল উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মহচেনা (৪০) ও তার স্বামী মকবুল (৪২) জানান, ‘তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমাদের পরিবার। সরকারি খাস জমিতে বাড়ি করে বসবাস করছি। এ মৌসুমে প্রতিদিন ৫ জন মিলে ১০-১৫ সের ধান পাই।’

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: