যুদ্ধাপরাধীদের লালনকারীদেরও বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলবদর, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দেশের অনেক মন্ত্রীর বিচার হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাদের যারা ক্ষমতায় বসিয়েছিল তাদের বিচার হবে। তারাও সমান অপরাধী।’

বুধবার বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধামন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি সময় এসে গেছে, দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে। শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না, যুদ্ধাপরাধীদের যারা লালন-পালন করেছে, যারা রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, যারা এদের হাতে আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দিয়েছে; তারাও সমান অপরাধী।’

স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হওয়ার নয়, এটি চলতে থাকবে। যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিচার এখনো চলছে।’

শহীদের রক্ত বৃথা যায় না এমন যুক্তি তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘শহীদদের পথ ছিল সত্য ও সুন্দরের। সত্য ও সুন্দরের পথকে কেউ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে কিন্তু চিরতরে রুখে দিতে পারে না। আমরা সে পথেই আছি। সুতরাং যতো বাধা-বিপত্তি আসুক জয় আমাদের নিশ্চিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জন্য কোনো আত্মত্যাগই বৃথা যায় না, কালো মেঘের ঘনঘটা সরে গেছে। সেটা আর আসবে না।’

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে যাব। অচিরেই বাংলাদেশ সে অবস্থানে যাবে।’

মৃত্যু তাকে বারবার হানা দিয়েছে এ প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যুকে আমি ভয় করি না। সপরিবারে জাতির জনককে হারানোর পর মৃত্যু আমাকে বহুবার তাড়া দিয়েছে। আমি মনে করি মৃত্যু একটি স্বাভাবিক নিয়তি। কেউ তাকে অস্বীকার করতে পারে না। সুতরাং মৃত্যু ভয় দেখিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না। এ শক্তি এদেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগ থেকে পাই। ওরাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

  •  
  •  
  •  
  •