শুধু প্রার্থনা দিয়ে সাঁওতাল পল্লীতে বড়দিন উদযাপন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
ঘরে ভালো খাবার নেই, নেই স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের নতুন কাপড়, নেই বাড়ীতে মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি। জীবনের নিরাপত্তাহীনতা আর নানা ধরণের শষ্কায় দিনাতিপাত করায় শুধু প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে উদযাপন হয়েছে খিস্ট্র ধর্মালম্বীদের শুভ বড়দিন উদযাপন।
এমন চিত্র গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ায় খোলা আকাশের নিচে ত্রিপলের (তাবু) নিচে আশ্রয় নেওয়া প্রায় আড়াই শতাধিক খিস্ট্র ধর্মালম্বী সাঁওতাদের মধ্যে। দারিদ্রতার করালগ্রাসে উচ্ছেদ আতষ্ক ও হুমকির মুখে তাদের নিত্যদিনের জীবন। এ কারণে প্রার্থনা ছাড়া বড়দিন উদযাপনে নেই কোন আনুষ্ঠানিকতা। প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে বড়দিন উদযাপন হয়েছে।
জানা গেছে, বাপ-দাদার ভিটে আখড়ে ধরে থাকতে গিয়ে গত ৬ নভেম্বর হামলার শিকার প্রায় তিন শতাধিক খ্রীস্টান ধর্মালম্বী সাঁওতাল পরিবারে বড়দিনের উৎসবের ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিবারের মত বড়দিনের উৎসব নিয়ে সাঁওতাল পল্লীতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের মধ্যে নেই কোন আয়োজন। এসব পরিবার প্রায় দু’মাস ধরে খেয়ে না খেয়ে হুমকি আর অজানা আতস্কে নানা কষ্টে দিনাদিপাত করছেন।
রবিবার সকালে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, খ্রীস্টান ধর্মালম্বীদের শুভ বড়দিন উপলক্ষে এখানে নেই কোন বিশেষ আয়োজন। নেই গানের আয়োজন, নাচ-গানসহ বাড়ীতে নেই আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়। অন্য দিনের মতো আজকের দিনটি মনে করছে এখানে আশ্রয় নেওয়া খিস্ট্রিয় ধর্মালম্বীরা।
শুভ বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে সকাল ৯টা থেকে মাদারপুর গির্জার পাশে প্যান্ডেলে পাপমুক্তি, মঙ্গল ও করুনা কামনায় শুরু হয় প্রার্থনা। সেখানে নারী-পুরুষ ও শিশুরা প্রার্থনায় অংশ নেয়। শুরুতেই মঙ্গলবাণী পাঠের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধি এবং জগতের সব মানুষের মঙ্গল কামনা করা হয়।
ত্রিপলের (তাবু) নিচে আশ্রয় নেওয়া টাটু টুডু বলেন, ‘ভয় আর আতষ্ক জীবনের নিরাপত্তহীনতায় ভোগার কারণে এবছর বড়দিনের উৎসবের আমেজ নেই সাঁওতাল পল্লীতে। নেই কোন কেনাকাটা নেই কোন বিশেষ আয়োজন। তাই শুধু প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে বড়দিন’।
বার্নাবাস নামে অপর এক খিস্ট্রিয় ধর্ম অনুসারী বলেন, ‘হাতে কাজ নেই, ঘরে খাবার নেই, জীবন নিয়ে আতষ্ক যেখানে, সেখানে আবার কিসের উৎসব। প্রতিবছর বড়দিনে আনন্দ-ফুর্তি হতো। বাড়িতে মেয়ে-জামাই ও মেহমান আসতো। কিন্তু সেই আনন্দ এবার নেই। সবকিছু ৬ নভেম্বরের হামলায় বিলিন হয়েছে’।
অনতুলি হেমরম বলেন, ‘প্রতিবছর বড়দিন আসলে তারা দিনটাকে আনন্দ আর উৎসবে পালন করেন। পাড়ায় পাড়ায় নানা অনুষ্ঠানের আয়েজন করতেন। ঘরের ছেলে-মেয়েরা সরাদিন এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিত। কিন্তু ভয় ও আতষ্কে এবারের বড়দিনে এসব করা সম্ভব হচ্ছেনা।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার জানান, মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে বড়দিনের উৎসব যাতে নিবিঘ্নে হয় সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি ছিলো।

