বাকৃবিতে আরেকটি স্মরণীয় সেমিস্টার ক্লাস সমাপ্ত
কৃষি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর অভিজ্ঞতায় ভরা একটা সেমিস্টার শেষ করেছেন। অনেকদিন ধরে করিম ভবনে ক্লাস করার পর এবার প্রথমবারের মতো তারা কৃষি অনুষদের মূল ভবনে নিয়মিত ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছেন। এটা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একদম নতুন এক অধ্যায়ের শুরু।
সেমিস্টারজুড়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান, আণবিক জেনেটিক্স ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সবজি, মসলা ও ঔষধি উদ্ভিদ, অ্যাগ্রোফরেস্ট্রির নীতি ও অনুশীলন, এক্সটেনশন কমিউনিকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাঠদান চলেছে। তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্লাস, ল্যাবরেটরির কাজ আর মাঠভিত্তিক শিক্ষার মিশেলে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান আর দক্ষতা দুটোই অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
বাকৃবির একাডেমিক কাঠামো অনুযায়ী একটা ব্যাচে প্রায় ৩২০ জন শিক্ষার্থী থাকেন, যারা একাধিক সেকশনে ভাগ করা। প্রতিটা সেকশন আবার কয়েকটা ব্যবহারিক গ্রুপে ভাগ হয়, যেখানে তুলনামূলক ছোট পরিসরে ক্লাস চলে। প্রতিটা বিষয়ে একজন নির্দিষ্ট শিক্ষক গ্রুপের দায়িত্বে থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আর কার্যকর শেখার পরিবেশ তৈরি হয়।
সেকশন-সি-এর গ্রুপ-৭-এর শিক্ষার্থীদের জন্য এ সেমিস্টারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা ছিল মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের “সয়েল কেমিস্ট্রি” কোর্স। কোর্সটির গ্রুপ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. শিহাব উদ্দিন। তিনি বিষয়বস্তুকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করতেন আর সহজ করে ব্যাখ্যা দিতেন, যাতে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ আর কৌতূহল দুটোই বেড়ে যায়।
সেমিস্টারের শেষ দিনে গ্রুপ-৭-এর শিক্ষার্থীরা মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের একটা গবেষণাগার পরিদর্শনের সুযোগ পান। ল্যাবরেটরির বিভিন্ন কার্যক্রম দেখে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি দিনটা ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক মিলনমেলারও একটা উপলক্ষ। আড্ডা, হালকা আপ্যায়ন আর ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে সেমিস্টারের শেষ মুহূর্তগুলো সত্যিই স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
এই সেমিস্টারে গ্রুপের একজন শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত রবিন অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য ভারতে থাকায় শ্রেণিকক্ষ বা ব্যবহারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি। তার অনুপস্থিতি সহপাঠীদের কাছে প্রতিটা ক্লাস, ব্যবহারিক সেশন আর গ্রুপ কার্যক্রমেই অনুভূত হয়েছে। সবাই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন আর শিগগিরই তাকে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
সেমিস্টার শেষে ড. শিহাব উদ্দিন শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ, নিয়মানুবর্তিতা আর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দক্ষ, দায়িত্বশীল আর মানবিক কৃষিবিদ হয়ে দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। একইসঙ্গে তিনি রবিনের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।
গ্রুপ-৭-এর শিক্ষার্থীদের কাছে এই সেমিস্টার শুধু কয়েকটা কোর্স শেষ করার ব্যাপার নয়। বরং নতুন পরিবেশে নিজেদের খুঁজে পাওয়া, ব্যবহারিক জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠভাবে শেখা আর বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও মজবুত করার এক অনন্য সময়। নতুন ভবনের শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরির অভিজ্ঞতা, মাঠভিত্তিক শিক্ষা আর সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত তাদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন জায়গা করে রাখবে।

