তানোরে আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক
মিজানুর রহমান, তানোর সংবাদদাতা:
রাজশাহীর তানোরে গতবারে চাষি ও ব্যবসায়ীরা আলুর দাম ভাল পাওয়ায় আগামীর আশায় বুক বেধে এবারে জোর দমে শুরু করেছে আলুচাষের কাজ। সার, বীজ নাগালের মধ্যে থাকায় ব্যাপক জমিতে আলু চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে৷
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর পুরো উপজেলা জুড়ে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে, তবে কৃষকের মাঝে আলু চাষে বাড়তি উৎসাহ দেখে ধারণা করছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও হয়তো বেশি জমিতে আলু চাষ হবে। বিগত বছরে অন্যান্য সবজির দামের মতই আলু বিক্রি করে কাংখিত লাভ পেয়েছেন উপজেলার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। সে লক্ষ্যে নতুন করে আবারো চাষিরা আলু রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার চাপড়া, কালনা, আমশো, মোহর, যশপুর, লালপুর, মুন্ডুমালা, কাশিমবাজার, তালন্দ, কাঁমারগা, বিল্লী সহ তানোরের প্রতিটি মাঠেই এখন আলু ক্ষেতের কাজই দেখা যাচ্ছে। কোন জমিতে লাড়া কাটা ও জমির চারপাশ তৈরি করা হচ্ছে। আবার কোন জমি তৈরীতে চাষ, সার ছিটানো এবং কোন জমিতে চলছে আলু লাগানোর কাজ। তবে পুরোপুরি লাগানো শুরু হবে সামনে সপ্তাহের প্রথম দিক থেকে।
বর্তমানে প্রকৃত প্রান্তিক চাষিরা এখন আলু রোপন করছেন আর ব্যবসায়ী চাষিরা বিভিন্ন এলাকার অনেক জমি লিজ নিয়ে একত্রে প্রকল্প করে চাষ করবেন বলে জানা গেছে। উপজেলার বিগত বছরের সফল আলুচাষী মোহর গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, দেশের কৃষি ফসলের মধ্যে আলু একটি অর্থকরী সব্জি ফসল। আবার আলু চাষে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। মৌসুমের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আলু রোপন করতে না পারলে ভাল ফলন পাওয়া যায় না। তাই রাতদিন আলু চাষিদের আলুকাটা, আলুর জমি চাষ, রোপন এবং সেচ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আলুচাষ একটি রিস্কি সব্জি ফসল। কপাল ভাল হলে বেধে গেল, আর ভাল না হলে তিলে তিলে গড়া সংসারের বেশীরভাগ রোজগার এক নিমিষেই চলে গেল। গতবারে আলুর কাংখিত দাম পাওয়া গেছে, তাইতো এবারে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছি।
পৌর এলাকার চাপড়া গ্রামের পৌর যুবলীগ নেতা ও সফল আলু চাষি রাজিব সরকার হিরো জানান, লাভ-লোকসান যাই হোক প্রতিবারের মত এবারো আমি ১৫ বিঘা জমিতে আলু করব। তিনি আরো বলেন, গতবার সব মিলিয়ে আলুর বাজার দর ভাল ছিল। এরপরও আগামীতে আলুর ভাল দাম পাওয়ার আশায় অধিকাংশ কৃষকই আলুচাষে ঝুকেছেন। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠে মাঠে এখন আলু চাষের দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ছে। কেউ জমি চাষে, কেউ আলু রোপনে, কেউ রাসায়নিক সার প্রয়োগে ব্যস্ত আছেন। চলছে উপজেলার মাঠে মাঠে আলু লাগানোর মহা উৎসব পূর্ব মহড়া। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছিল ৩৬ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে।

