কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের দুর্ভোগে

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
আবারো শীত ও কনকনে ঠান্ডায় দুর্ভোগ বেড়ে হেছে কুড়িগ্রামের মানুষজনের। সন্ধা হওয়ার আগেই বেড়ে যাচ্ছে ঠান্ডার তীব্রতা। এ অবস্থা চলছে দুপুর পর্যন্ত। দুপুর পর্যন্ত সুর্যের দেখা না মেলায় কাজে বের হতে পারছেন না দিন মজুর শ্রেনীর মানুষেরা। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

প্রয়োজনীয় গরম কাপড় না থাকায় ছিন্নমুল ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন এ জেলার কৃষি শ্রমিকরা। বোরো চাষের চারা রোপনের ভরা মৌসুম শুরু হলেও প্রচন্ড ঠান্ডায় মাঠে কাজ করতে যাচ্ছেন না অনেক শ্রমিক। এ অবস্থায় কৃষকেরা বোরো চারা রোপন নিয়ে শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। ঠান্ডার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না গবাদি পশুরা। ফলে বোরো চাষে সময়মতো চারা লাগাতে পারছেন না কৃষকরা। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপ চরের মানুষেরা।

কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নের কৃষক মজিবর রহমান জানান, হঠাৎ করে দুইদিন থেকে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে চাচ্ছেন না।

রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক আমজাদ হোসেন বলেন, ঠান্ডায় হাত পা বের করা যায় না। এতো ঠান্ডায় গাদা জমিতে বেশিক্ষন থাকা যায় না। এজন্য বর্তমানে কাজ না করে বসে আছেন তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক জাহাঙ্গীর জানান, জমিতে বোরো চারা লাগানোর কাজ করতে আসছি। কিন্তু থাকা যায় না খুব ঠান্ডা। হাত-পা অবস হয়ে আসে।

কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জাকির হোসেন জানান, আজ কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, সরকারীভাবে জেলার শীতার্ত মানুষের মাঝে ৫৪ হাজার ৩শ ৮৫ টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়ার পর তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরন করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •