৪৪ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি যোদ্ধা প্রশিক্ষক ওস্তাদ দবির
প্রতীক ওমর, বগুড়া প্রতিনিধি:
এক নামেই তাঁকে চিনতেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁর প্রশিক্ষণেই অস্ত্র হাতে ফায়ার করেছে অসংখ্য যোদ্ধা। রণকৌশলী প্রশিক্ষক এই মহান মানুষটির নাম দবির উদ্দিন আহম্মেদ। যুদ্ধের সময় তাঁকে সবাই ডাকতো ওস্তাদ দবির বলে। বগুড়ায় জন্মনেয়া এই মহান যোদ্ধা যুদ্ধের আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সুবেদার মেজর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফলে যুদ্ধের সার্বিক কৌশল তাঁর আয়ত্তে ছিলো। তিনি যুদ্ধের সময় বাঙ্গালি সাধারণ যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য নিজেকে উজার করে দিলেন।
একাত্তর সালে যুদ্ধের সময় এই ওস্তাদের বয়স ছিলো পঞ্চাশ। তাতে কি? দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হবে এই চেতনা ছিলো তাঁর মধ্যে দৃঢ় ভাবে। বয়সের দিকে না তাকিয়ে ঝাপিয়ে পরেন যুদ্ধের মাঠে। ৭নং সেক্টরের অধিনে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সম্মূখযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন।
বগুড়াসহ দেশের প্রায় সব মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তিনি এখনো ওস্তাদ দবির হিসেই খ্যাত। তাঁকে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ওস্তাদ ডাকেন সবাই। অথচ দেশ স্বাধীনের চুয়াল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও এই ওস্তাদ এখনো পায়নি যোদ্ধার সরকারি স্বীকৃতি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছেন। পাশাপাশি গোটাদেশে বাদ পরা যোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের স্বীকৃতিও দিয়েছেন কয়েক দফায়। অথচ ওস্তাদ দবিরের ছোট মেয়ে শামীম আরা আহম্মেদ জয়া ঢাকা বগুড়ার দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও তার বাবার স্বীকৃতি নিতে পারেনি আজো।
বাবার স্বীকৃতির জন্য ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর তৎকালীন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদনসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আজঅবধী কোন কাজ হয়নি। ওস্তাদ দবিরের ছোট মেয়ে শামীম আরা আহম্মেদ জয়া জনান, ১৭৭৯ সালে তার বাবা মারা যায়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত কাগজপত্রের ফাইল থেকে পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বেশ কিছু নিদর্শন। ভারত সরকারের পুর্নবাসন দপ্তরের পতিরাম ইয়ূথ ক্যাম্প প্রদত্ত রিলিজ আদেশ স্লিপ, ৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বগুড়া সদন ইউনিট কমান্ডার প্রদত্ত প্রত্যয়ণপত্র, সেখানে উল্লেখ ছিলো তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ফাউন্ডার এবং প্রথম আহবায়ক। তার এম এফ নং পিজি-৬৯৫০২ সাব মেজর সেক্টর নং ০৭।
যুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরে পতিরাম ইয়ূথ ক্যাম্পে সে সময়ের ভারতীয় জেনালে অরোরার সাথে অনেক বার সাক্ষাৎ হয়েছে তার। সরকারি ভাবে এই যোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমীন বাবলু বলেন, যে সময় সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদেও তালিকা করা হয়েছিলো সে সময় তার পরিবারের কেউ দরখাস্ত না দেয়ায় নাম বাদ পরেছে। পরে তার ছোট মেয়ে নতুন করে দরখাস্ত করেছে আশা করা যায় নতুন গেজেটে তার নাম আসবে।
বগুড়া জেলায় সব মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মিললেও এখনো ফাইল বন্দি আছে যোদ্ধাদের প্রশিক্ষক ওস্তাদ দবির আহম্মেদেও স্বীকৃতি। মহান বিজয়ের এই মাসে তার ছোট মেয়ে শামীম আরা জয়া তার বাবার স্বীকৃতি সরকারি ভাবে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

