পানির নিচে তলিয়ে গেছে বোরো ধান, দিশেহারা কৃষক
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নামা আসা পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে গেছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়ের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর ইরি-বোরো ফসল। একমাত্র ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকায় দিশেহারা স্থানীয় কৃষকরা। নদী-নালা ভরাট হয়ে পানি সড়তে না পারায় এই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানায় কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানের শীষ বের হতে না হতেই দেখা দিয়েছে কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষন ও পাহাড়ী ঢল। এতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা, নাজিরপুর, রংছাতি ও খারনৈ ইউনিয়নে ইরি-বোরো ফসলের অধিকাংশই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ২০ গ্রামের ৮ হাজার কৃষকের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। একমাত্র ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকায় দিশেহারা স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্থানীয় আশা সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১২ কাঠা বোরো ফসল আবাদ করেছে। কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালিয়ে যাওয়াই এখন তার পক্ষে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয় এলাকার অধিকাংশ কৃষকদের একই অবস্থা।
এদিকে এলাকার অধিকাংশ নদী-নালা ভরাট হয়ে গেছে। যার ফলে বৃষ্টি এবং ঢলের পানি সড়তে না পারায় এই ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব এলাকার ফসল রক্ষা করতে হলে খাল খনন জরুরী বলে মনে করেন সাধারন জনগণ।
খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওবায়দুল হক জানান, আমি আমার ইউনিয়নের লোকজনের কাছে যেতে পারছিনা। আমাকে দেখেই তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই ঘটনা আমি কৃষি কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুন বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং খারনৈ ইউনিয়নে বেশি ক্ষতির আশংকা করছেন।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, উক্ত এলাকার প্রায় ৭০ ভাগ ফসল পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে নদী-নালা খননের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। অচিরেই এ সমস্যা সমাধানে সরকার যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে, এমনটিই মনে করেন নেত্রকোনাবাসী।

