বর্ষবরণ করতে রাবিতে ব্যাপক আয়োজন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
‘গিরগিটি রং পাল্টিয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চেহারার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ঠিক তেমনি বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজের মানুষ নিজের স্বার্থে চারিত্রের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। শুধু মানুষ নয়, সমাজের সব কিছুই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আমরা কেউ কাউকে চিনতে পারছি না। একশত বছরের পুরোনো বাঙালি ঐতিহ্যের সাথে আমাদের কোনো মিল নেই। এমনকি পজিটিভ অর্থেও যদি বলি, আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় সবকিছুর পরিবর্তন ঘটছে, এমনকি দেশের চিত্রও পাল্টে যাচ্ছে। তাই এবারের আমাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান মোটিফ বা মূল আকর্ষণ রাখা হয়েছে বর্ণচোরা বা গিরিগিটী।

কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী।

অতীত জীর্ণতাকে ভুলে নতুন সৃষ্টির প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৪কে বরণ করতে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে বাঙালি জাতি। সেই ধারাবাহিকতায় বাঙালির এই নববর্ষকে বরণ করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে বর্ষবরণে প্রতিবারের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।

‘দিব্য প্রাণে লাগুক দোলা, নববর্ষের রঙে রঙে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিন দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে অনুষদটি। ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় চারুকলা বিভাগের সামনে থেকে রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে প্রধান মোটিফ ‘বর্ণচোরা’। আর সাথে থাকছে অশুভ শক্তি দূর কারার প্রত্যয় নিয়ে বড় বড় ৮টি পাশা, ১০০টি মুকুট ও ৩০টি ব্যতিক্রম ধর্মী মুখোশ। বিকেলে সমবেত সঙ্গীত, লোক সঙ্গীত, বউল সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, হরবোলা ও অভিনয়। ১৫ ও ১৬ তারিখে সুন্দরম আবৃত্তি গোষ্ঠীর পরিবেশনা, ব্যান্ড সঙ্গীত ও চারুকলা পরিবেশনায় ঐতিহাসিক যাত্রাপালা আধারের মুসাফির পরিবেশিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. মো. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী বলেন, ‘বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কাজ চলছে। আশা করছি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় তথা রাজশাহীর সকল মানুষকে সুন্দর একটি অনুষ্ঠান উপহার দিতে পারব।’

এছাড়া বাংলা, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, দর্শন, নাট্যকলা ও সঙ্গীত, ভূ-তত্ত্ব ও খনি বিদ্যা, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস, মার্কেটিং, নৃ-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, লোক প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভাগের পাশাপাশি রাবি প্রেসক্লাব, রাবিসাস, রিপোর্টাস ইউনিটি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, ক্যারিয়ার ক্লাব , বাঁধন, স্বজনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আর অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাঙালী ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা-ইলিশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসের সকল অনুষ্ঠান ৫টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: