আজিজুল হাকিমের কবিতা ‘স্বাধীনতার অধিকার’
স্বাধীনতার অধিকার
আজিজুল হাকিম আরজু
লাল-সবুজের এই পতাকা যবে
ওই গগনে উড়ে,
গর্বে হায়, যায় রে যায়
বিপ্লবী এ চিত্ত ভরে।
একটি স্ট্যান্ড আর একটি রশির
ভিত্তিতে উড্ডীন নিশান,
ভেবে ফিরে, কবে হবে মোর প্রতীক্ষার অবসান?
হ্যাঁ, হাজার বাঙালীর চিন্তায় ছিল
স্বাধীন একটি ভূমি,
স্বাধীন একটি সূর্য,
যেতো স্বাধীন মৃত্তিকা চুমি।
স্বাধীনভাবে উড়বে পতাকা
স্বাধীন পবনে,
কোনো শঙকা থাকবে না
স্বাধীন বাঙালীর মনে।
এরই তরে,
হইল সংগ্রাম ‘৫২,’৬২,’৬৯
প্রতিটি পদক্ষেপে,
নির্যাতন ক্লিষ্ট বাঙালি
‘৭১ এ গেলো ক্ষেপে।
হিয়া মাঝে,
ছিল যত শঙকা
সবই বাজালো ঢংকা ,
বঙ্গ জনকের ৭ই মার্চের ভাষণে,
ভাবিলবাঙালী সত্তা-
লভিতে স্বাধীনতা-
ঝাপিবে এবার প্রাণপণে।
মার্চের ২৫,
চূড়ান্ত সংগ্রামের তরে
প্রস্তুত বাঙালী পন্থা,
ভাবিয়া তাই তন্দ্রাচ্ছন্ন।
শতপ্রাণকে ওরা করেছে হত্যা।
এবার,
কোনো ছাড় নেই-
দিয়ে দিবে ওরে যত প্রাণ
রয়েছিল যা অবশেষ,
তবুও মুক্ত যেন থাকে
সোনার বাংলাদেশ।
অবশেষে,
দুই লক্ষ মা-বোন। আর
ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে,
ওরা এসেছিল স্বাধীন এই –
নিশানটিকে নিয়ে।
ওরা এনেছিল-
স্বাধীন চন্দ্র, ভানু,
সিংহের গর্জন, বাঘের হুংকার।
আর-
হটিয়েছিল হানাদার।
আজ-
উড্ডীন ওই পতাকা ভাবে,
কবে দেখা পাবে
স্বাধীনতার অধিকার?
যেদিন,
এই স্বাধীন মাটিতে রবে না
মুক্তমনার উল্টো পথিক,
নিশ্চিহ্ন হবে ওরা- অনীতির দল,
যাদের তরে এই নিশানের যত ধিক।
সেদিন,
ঊর্ধ্বে আরু ঊর্ধ্বে উড়বে-
নিশান, তরঙ্গের মত,
জানান দিবে সকল প্রাণকে
বিশ্বে রয়েছে যত।
_________________________________________________
কবি:
শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ২২০২।


