প্রতিষ্ঠার অর্ধশতাব্দী পেড়িয়ে গেলেও বাকৃবিতে নেই মানসম্পন্ন ক্যাফেটেরিয়া

আরিফুল ইসলাম, বাকৃবি থেকেঃ

দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ কৃষি শিক্ষার সূতিকাগাার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে চলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরন্তর গবেষণা। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনেও দ্বারপ্রান্তে। তবে যে মেধাবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে ভূমিকা রাখছে সেই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। শুধু তাই নয়, তাদের কোন অতিথি আসলেও ক্যাম্পাসে আপ্যায়নের নেই কোন সুব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা ক্যাফেটেরিয়া প্রতিষ্ঠার দাবি জানালেও প্রতিষ্ঠার অর্ধশতাব্দী পেড়িয়ে গেলেও প্রশাসন থেকে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের ব্যবস্থা বলতে হলের ডাইনিং এবং জব্বারের মোড়, শেষমোড় ও ফসিলের হোটেল। আর এ হোটেলগুলোতে অনেক দিনের পুরোনো-বাসি তেল খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে অহরহ। একই ফ্রিজে কাঁচা মাছ, মাংসের সাথে রান্না করা খাবার রাখা হচ্ছে। নোংড়া ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও খাবার পরিবেশন করা হয়। এমনকি খাবারের দামও অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, এসব হোটেলের বাসি খাবার খেয়ে ডায়রিয়া ও অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন ধরনের পেটের অসুখে ভুগতে হচ্ছে। এসব হোটেল ছাড়া আশেপাশে আর কোনো হোটেল বা ক্যাফেটেরিয়া না থাকায় আমাদের এই নিম্নমানের খাবার খেয়েই থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় মূল্যও বেশি রাখা হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি উন্নতমানের ক্যাফেটেরিয়া স্থাপনের দাবি জানান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাফেটেরিয়া চালু না থাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য নয়টি এবং ছাত্রীদের জন্য চারটি আবাসিক হলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সাথে রয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক বিশাল সংখ্যা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কর্মকর্তাদের কোন অতিথি আসলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খাবারের দোকানেই খেতে নিতে হয়। এসময় তাদেরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও ব্যাহত হয়। অথবা যেতে হয় ৩ কি.মি দূরের শহরের হোটেলগুলোতে। অথচ একটি উন্নতমানের ক্যাফেটেরিয়া থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন ক্যাফেটেরিয়া স্থাপনের জন্য মাঝে মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সরকার দেব, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা সম্পন্ন ক্যাফেটেরিয়ার দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন যেখানে অনেকেই একমত পোষণ করেছেন। এছাড়াও মাঝে মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে দাবি জানান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. ফয়েজ আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি রোগী আসে পেটের পীড়ায় ও অ্যাসিডিটির সমস্যা নিয়ে। এসব রোগের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বাইরের অস্বাস্থ্যকর, বাসি ও তেলে ভাজা খাবারকেই দায়ী করেন।

এ বিষয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, টিএসসি কনফারেন্স হলের পেছনে ক্যাফেটেরিয়া স্থাপনের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দও হয়েছে। কিছু জটিলতায় আটকে আছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

  •  
  •  
  •  
  •