তামাকে রপ্তানি শুল্ক ১০ থেকে ২৫ শতাংশ করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাকের ওপর বিদ্যমান রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ২০১৭-১৮ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোমানা হক।

প্রবন্ধে তিনি ৪টি প্রস্তাবনা ও ৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছেন। প্রস্তাবনায় সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ২৫.৯৫ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বিড়ি ২৫ শলাকার ওপর ১০.১৩ টাকা করারোপ করে ২২.৩০ টাকা নির্ধারণ, ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে (জর্দা ও গুল) ওজনের ভিত্তিতে ১৬ টাকা ভিত্তিতে করারোপ করে খুচরা মূল্য সর্বোচ্চ ৩২ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া সব তামাক পণ্যে খুচরা মূল্য ১৫ শতাংশ বহাল রাখতে হবে।

প্রবন্ধে রোমানা হক জানান, প্রস্তাবনাগুলো গ্রহণ করা হলে সিগারেট থেকে সরকার অতিরিক্ত ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা, বিড়ি থেকে ১ হাজার ৩০ কোটি টাকা এবং প্রতি ২০ গ্রাম ধোঁয়াবিহীন তামাক থেকে অতিরিক্ত ৬ টাকা রাজস্ব আয় হবে এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

এ ছাড়া সুপারিশে বলা হয়, বাংলাদেশের তামাকের উপর শুল্ক-কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং তা আদায় হয় অ্যাড ভ্যালোরেম (ad valorem) অর্থাৎ মূল্যের শতাংশ হারে যা অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করে এবং কর ফাঁকির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

ফলে, সিগারেটের ওপর করারোপের জন্য ব্যবহৃত মূল্যস্তর প্রথা পর্যায়ক্রমে তুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়। তামাক পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ২ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য খাতে সারচার্জ আরোপ করতে হবে। এ ছাড়া একটি সহজ ও কার্যকরি তামাক কর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যা তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, মানুষের কাছে তামাকের চাহিদা কমাতে হলে কেবল কর বাড়ালেই চলবে না, প্রয়োজন তামাকের ক্ষতিকর দিক বিষয়ে সচেতন করে তোলা। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হলে ঘন ঘন ক্যাম্পেইন করতে হবে। এটিকে একটি বৃহৎ আন্দোলনে রুপ দিতে হবে। কিভাবে তামাকের চাহিদা কমাতে হবে, কিভাবে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে তা নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দেশের উন্নয়নের জন্য তামাক, মাদক সেবনের অনেকটা বৈধতা দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের তো এখন সেই অবস্থা নেই। আমরা তো এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি, নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারি। ফলে দেশে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোসহ উচ্চ কর আরোপ করলে যদি কোনো কোম্পানি বন্ধ হবে তাহলে হোক, সরকার কোম্পানি থেকে হয়ত রাজস্ব পাবে না, তাই বলে তো আমরা মানুষের ক্ষতি করতে পারি না। এই দেশটি কাদের জন্য? কর কার জন্য? দেশটি কার জন্য? সাধারণ মানুষের। মানুষের কথা চিন্তা করে যদি আমাদের অর্থনীতির কথা চিন্তা করি তাহলে এর জন্য সরকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। গণমানুষের ক্ষতি করা যাবে না। এটা হতে দেওয়া যাবে না। তবে হঠাৎ তো বন্ধ করা যাবে না, কারণ হঠাৎ সরকারের আয় কমে যাবে। ফলে আস্তে আস্তে বন্ধের পথে আগাতে হবে। আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সাল। আমরা যদি ২০৩০ সালের আগে না হোক ২০৩০ সালেও যদি ৫ শতাংশ কমে আসে তাও আমরা অনকে এগিয়ে যাবো। সরকারি কোষাগারে তামাকজাত পণ্য থেকে ৬০০ কোটি টাকা খরচের বিষয়ে বিধিমালা হলে সেই টাকা খরচ করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, এনবিআরের রাজস্বের একটা বড় অংশ আসে তামাক থেকে। এনবিআরে পরিবর্তন আনতে, সেই ঝুঁকিটা নিতে এনবিআর দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে তিন ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ওপর আলাদাভাবে কর আরোপের চিন্তা করছে, যেটা করলে রাজস্ব আরো বেড়ে যেতো।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। আরো বক্তব্য রাখেন শফিকুল ইসলাম, নাদিরা কিরন, মর্তুজা হায়দা লিটন প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •