শেখ হাসিনাকে নিয়ে আপত্তিকর কবিতা: সেই ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া ইতালি শাখার সদ্য মনোনীত সহসভাপতি আতিকুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগ জানায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, আতিকুল ইসলাম (সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা)-কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

ছাত্রলীগের নেতারা জানান, ইতালি শাখা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সহসভাপতি আতিকুল ইসলাম ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর তার ফেসবুক পেজে একটি কবিতা পোস্ট করেন। এতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী সাহারা খাতুনকে কটাক্ষ করেন। এই কবিতার নিচে আবার কমেন্ট করেন ইতালি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শাহরিয়ার। এতে তিনি আতিকুল ইসলামের কবিতার প্রশংসা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানা যায়নি।

আতিকুল ইসলামকে দলের নেতৃত্ব দেয়ার পরপরই বিষয়টি ধরা পড়ে। এ নিয়ে ছাত্রলীগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘এটা দেখে একজনে লিখছে, ‘আমদানি করে নেতা বানালে এমনই হয়। খোঁজ নিলে এমন নাকি ভুরি ভুরি পাওয়া যাবে।’ আর একজন মন্তব্য করছে, ‘টাকা আর স্বজনপ্রীতির কাছে আদর্শ জলাঞ্জলি। যারা নেতা বানাইছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড খোঁজার সময় এসেছে। এটা একবার ঘটেনি। বারবার ঘটছে, এর পিছনে বড় কোন চক্র কাজ করছে।’

রনি লেখেন, ‘যারা এটা নিয়ে ভাইরাল বানিয়ে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদেরকে বলছি, এটা ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করুন। জানেন তো, কমিটিটা করেছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা করেছে মানে এটা সহি ও শুদ্ধ। এই সংগঠনে আর যে কেউ টাকা দ্বারা লালায়িত হতে পারে, যে কেউ স্বজনপ্রীতি করতে পারে কিন্তু কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সেটা করে না। সুতরাং তাদের বচনই ছাত্রলীগের অনুশাসন।’

সমালোচনা মুখে ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেন আতিকুল ইসলাম। তবে সেই বক্তব্যের স্ক্রিনশট দিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানাতে থাকেন। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়কেই ফোন করে ঢাকাটাইমস। তবে তাদের কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

  •  
  •  
  •  
  •