ঘাটাইল ইউএনও’র দূর্ব্যবহারের শিকার বাকৃবির দুই শিক্ষক

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি:
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার (ইউএনও) দূর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুজন প্রফেসর। গত ৬ মে শনিবার পিতার মৃত্যুর খরব পেয়ে শোকাহত কন্যা প্রফেসর ড. মারজিয়া রহমান (মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগ) তাঁর স্বামী প্রফেসর ড. মাহমুদুল আলম (বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগ) ও সন্তানদের নিয়ে রওনা দেন নিজ বাড়ী ভূয়াপুর উপজেলার তাড়াইলে।

ঘাটাইলের গলগন্ডা এলাকায় রাস্তার পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি লাল পাজেরো বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রেবাসটিকে সামান্য ঘষা দিয়ে অতিক্রম করার পর লাল পাজেরা গাড়িটি থেকে আব্দুর রহমান নামের একজন সহকারী নেমে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ীর চালককে বকাবকি করেন এবং গাড়ী থেকে টেনে নিয়ে যান। এতে মাহমুদুল আলম প্রতিবাদ করলে তাদেরকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন।

একপর্যায়ে মাহমুদুল আলম তাঁর মরহুম শ্বশুরের বাড়ীর দিকে যাওয়ার কথা বললে ঔ কর্মচারী বলেন আপনারা যেখানে খুশি সেখানে যান এবং শিক্ষক পরিচয় দিলে বলেন ”রাখেন আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর”। আপনাদের কোন মেজিস্ট্রেসি পাওয়ার নেই। কথাগুলো ইউএনও গাড়িতে বসে শুনছেন এবং ড্রাইভারকে বলেন আপনার স্যারকে এখানে ডাকেন। শোকাহত মার্জিয়ার ও তার হতবিহব্বল স্বামী গাড়ীতে বসে থাকা ইউএনও কে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে তিনি বলেন কি আর করার আপনারা যখন মরার বাড়িতে যাচ্ছেন চলে যান। এসব পরিস্তিতি দেখে গাড়ীতে থাকা নাবালক সন্তানেরা হাউমাউ করে কান্না করতে থাকেন।

মুঠোফোনে ইউএনও আবুল কালাম মো. শাহীন এর সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন আব্দুর রহমান একজন নিম্ন শ্রেনীর কর্মচারী, সে যে দূর্ব্যবহার করেছে তার জন্য তিনি তাকে শাসিয়ে দিবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ইউএনও আবুল কালাম মো. শাহীন বিসিএস ২৪ তম ব্যাচের বিসিএস (প্রশাসন) কর্মকর্তা। তিনি উপজেলার কনিষ্ট একজন কর্মকর্তা হয়ে অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি অফিসের কিছু দুষ্ট সহকারীকে নিয়ে সার্বক্ষনিক চলাফেরা করেন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মাহমুদুল আলম বলেন, ইউএনও এর একজন সহকারী প্রকাশ্যে দুইজন শিক্ষককে অপমান ও অপদস্ত করছেন তা ঐ ইউএনও এর আচার- ব্যবহার ও কর্মকান্ডের বহিঃপ্রকাশ। ঘটনাস্থলে গাড়ীতে বসে একজন বিশ্বদ্যিালয়ের প্রফেসরকে তার কাছে ডেকে তিনি অসৌজন্য আচরণ ও পদমর্যাদার বরখেলাপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র একজন প্রফেসর গ্রেড-৩ (গ্রেড-২, গ্রেড-১) পদমর্যাদার আর ইউএনও গ্রেড-৭ পদমর্যাদার। রাস্ট্রীয় পদমর্যাদাকে তিনি অবমাননা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন, যে শিক্ষককে সম্মান দিতে জানে না সে পিতা-মাতাকে সম্মান দিতে পারে না। একজন সিকিউরিটি গার্ডেরও অনেক ক্ষমতা দেয়া থাকে, অস্ত্র থাকে। আবার একজন উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক কর্মকর্তার মেজিস্ট্রেসি পাওয়ার থাকে না। তাই মেজিস্ট্রেসি পাওয়ার আর সসস্ত্র থাকলে পদমর্যাদায় বড় হওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বড় হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শুধু একজন জাতীয় ব্যাক্তিত্ত্ব নন তিনি একজন আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্ত্বও বটে। প্রতিটি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের মেধা ও গবেষণা দিয়ে দেশকে বহির্বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিদেশে গবেষনা করে অর্জিত জ্ঞান ও অর্থ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। অধিকন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন নতুন সম্পর্ক স্থাপন ও প্রকল্প অর্জনের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগে অবদান রাখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘাটাইল উপজেলার একজন বিসিএস কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি অত্যান্ত দৃঃখজনক। একজন প্রশাসনিক পদে থেকে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে তিনি যথাযর্থই আইনের অবমাননা করেছেন, অন্যায় করেছেন। মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতার অপব্যবহার করার প্রবণতা দেখিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •