বিলুপ্ত ছিটমহলে বিজয় দিবস পালিত
রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
উৎসব মুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে কুড়িগ্রামের সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহল গুলোতে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর গত ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মুল ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়।
মুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এবারই প্রথম বিজয় উৎসব পালন করছে তারা। ফলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্রই।
দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরের থাকা ১৬২ টি ছিটমহল ৩১ জুলাই মধ্যরাত হতে দুদেশের মুল ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়। ৬৮ বছরের লাঞ্চনা ও বঞ্চনার পর বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া এ মানুষ গুলো প্রথমবারের মতো বিজয় দিবস পালন করছে। ফলে এ বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সকল শ্রেনীর মানুষের মাঝে। দাসিয়ার ছড়া কালীরহাট বাজারসহ কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরের ১২ টি বিলুপ্ত ছিটের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিজয় র্যালী ও শহীদদের স্মরনে পুষ্পার্র্ঘ্য অর্পন করে দিবসের সুচনা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দিনভর চলছে খেলা-ধুলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুক্তি জীবনে বিজয় দিবস পালন করতে পেরে আনন্দে উদ্দেলিত হয়ে পড়েছেন বিলুপ্ত ছিটের বাসিন্দারা।
বিলুপ্ত দাসিয়ার ছড়া ছিটের বাসিন্দা আয়েশা খাতুন জানান, নাগরিকত্ব লাভের দীর্ঘ আন্দোলনে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ছিটমহল গুলোতে বিজয় দিবস পালন করলেও এবারে মুক্ত জীবনের বিজয় দিবস পালন করাটা আমাদের কাছে অন্যরকম আনন্দের।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি, বাংলাদেশ ইউনিটের সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, বিজয়ের এই দিনে বাঙ্গালী ও বাংলাদেশী হিসেবে বিজয় দিবস পালন করতে পেরে গর্বিত আমরা। দীর্ঘ ৬৮ বছরের দুঃখ-কষ্ট আমরা ভুলে গেছি। বাংলাদেশের সাথে মিলিত হয়ে বিজয় দিবস পালন করাটা সত্যিই আমাদেও জন্য সৌভাগ্যের। দিনটি আমরা সকল সাবেক ছিটবাসীরা আবেগঘন পরিবেশে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করছি।

