তানোরে শেষ হলো বৈশাখী মেলা

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
নববর্ষকে বরণ করতে রাজশাহীর তানোরে এগার দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী দিনে শুরু হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে কুষ্টিয়ার লালন একাডেমী ও স্বাধীনতা ব্যান্ড সহ অন্যান্য শিল্পীরা শতশত দর্শককে মাতিয়ে রাখেন মধ্যরাত পর্যন্ত। এসময় দর্শনার্থীর ভিড়ে মেলা চত্বর ছিল সরগরম।

তবে এ মেলার শুরুর দিনে দর্শকের মনে যতটা প্রাণোচ্ছ্বাস ছিল, মেলার শেষ দিনে দর্শকের চোখেমুখে ততটাই ছিল মিলনমেলা ভাঙার বিরহ-বেদনা। আয়োজকদের চোখেমুখেও ছিল বিষাদ-ব্যথা।
উপজেলা পরিষদের ডাক-বাংলো মাঠে বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী মেলা চত্বরে গত বৃহস্পতিবার শেষ দিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। উপজেলার প্রশাসন ও উপজেলা বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির যৌথ আয়োজনে এবং স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে উপজেলায় এগার দিন ধরে জমে উঠেছিল হাজারো প্রাণের মিলনমেলা। তবে শেষ দিনে মেলাজুড়ে ছিল বিদায় আর বিচ্ছেদের মলিন চিত্র।

এবারের বৈশাখী মেলায় পুতুলনাচ, সার্কাস, বাউলগান, জারিগান, নাগরদৌলা, ট্রেন খেলা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ছাড়াও ছিল অনবদ্য যাদু খেলা দেখানোর পাশাপাশি জীবন্ত মানুষের মাথা কেটে আবারো জোড়া লাগানোর শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার রাত্রি সাড়ে দশটায় মেলা মঞ্চে উপজেলা বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ.লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী।
এতে তালন্দ ললিত মোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা: শওকাত আলী, তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম, তানোর এ কে সরকার কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান মিঞা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লূৎফর হায়দার রশিদ ময়না প্রমুখ।
উপজেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক ও মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমানের পরিচালনায় সবশেষে ছিল লটারি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

উল্লেখ, তানোরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই বৈশাখী মেলা চলতি মাসের ৭মে থেকে ১৮মে প্রতিদিন সকাল ০৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রত্যেক দর্শনার্থীদের দশ টাকার প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের মধ্য দিয়ে মেলাস্থল ঘুরে দেখে দেখার জন্য উন্মুক্ত ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •