চরম আকার ধারণ করছে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি
জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরে মঙ্গলবার থেকে যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার ইসলামপুর বেলগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার পানিতে ডুবে রিপন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড-৯ (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা নাগাদ যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে করে জামালপুর জেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষিরচর, তুলশিপুর এলাকাসহ জেলায় ৬৮ ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ২৬টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত হয়ে প্রায় দেড় লাখেরও অধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে সারা জেলায় বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯ উচ্চ বিদ্যালয় মাধ্যমিক মাদ্রাসা এবং কলেজসহ সর্বমোট ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইসলামপুর উপজেলা সবচেয়ে বেশি বন্যা কবলিত হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান।
বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উঁচু বাঁধে খোলাকাশের নীচে কিংবা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। বন্যা কবলিত মানুষের খাদ্যে ও বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি গো খাদ্যে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে গতকাল ১১জুলাই বন্যা কবলিত ইসলামপুর উপজেলার জন্য ১০ মেট্রিক এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ১০ মেট্রিক টন চাল মোট দুই উপজেলায় মোট ২০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দিয়েছে। এ পর্যন্ত জামালপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বমোট ৯০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা বন্যা দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহাম্মেদ কবীর।

