লোক থাকলে টিকিট পাবেন
ঈদের কাঙ্ক্ষিত টিকিট যেন সোনার হরিণ। অগ্রিম টিকিট ছাড়ার তৃতীয় দিনেই (রোববার) ৯৫ শতাংশ বিক্রি শেষ। বিশেষ করে ২৯, ৩০ ও ৩১ আগস্টের টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অন্যান্য তারিখের টিকিটও অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে গেছে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় যে কোনো তারিখের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে!
রোববার রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারে গিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। হানিফ এন্টারপ্রাইজের বালুমাঠের নিজস্ব কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য তারিখের টিকিট নিচ্ছেন তারা।
তবে কাঙ্ক্ষিত তারিখের টিকিট পাচ্ছেন না- এমনটি বলা ভুল হবে। পাচ্ছেন কিন্তু বিশেষ ব্যবস্থায়। যাত্রী ছাউনির নিচে দেখা যায়, অর্থের বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন কতিপয় ব্যক্তি।
আবির হোসেন নামে বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজ’র। তিনি জানান, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কাউন্টার থেকে কাঙ্ক্ষিত তারিখের টিকিট পাননি। পরে যাত্রী ছাউনির নিচে কথা হয় এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় টিকিট সংগ্রহ করে দেয়ার কথা জানান। এজন্য তাকে খুশি করতে হবে। তাকে খুশি করার বিনিময়ে ৩১ আগস্টের টিকিট পান আবির হোসেন।
তুষার ইমরানকে দেখা যায় হাসিমুখে কাউন্টার থেকে বের হয়ে আসতে। কোন তারিখের টিকিট নিলেন, জানতে চাইলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, অগ্রিম বুকিং দেয়া ছিল, তাই পেয়েছি। আগেই মেইল করা ছিল।
অগ্রিম টিকিটেরও অগ্রিম বুকিং থাকে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিকিট বিষয় নয়, লোক থাকলে আপনিও পাবেন। কাঙ্ক্ষিত টিকিট আসল দামেই পাবেন।
শরিফুল নামে উত্তরবঙ্গগামী এক যাত্রীকে দেখা যায় ৩০-৩১ আগস্টের টিকিটের খোঁজ করতে। কাউন্টার থেকে বলা হয় ১ সেপ্টেম্বরের টিকিট আছে। বাধ্য হয়ে সেটাই নেন। এরপর মোবাইলে তিনি বিষয়টি অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে জানান। কথা বলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি টিকিট ফেরত দেয়ার জন্য ফের কাউন্টারে যান। কিন্তু সেলসম্যান টিকিট ফেরত নেবেন না। তার বক্তব্য, বিক্রি টিকিট ফেরত হয় না। এ সময় শরিফুল বিশেষ এক ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনিই টিকিট ফেরত নিতে বলেছেন। সেলসম্যান যেন মোমের পুতুল হয়ে গেলেন। সুবোধ বালকের মতো টিকিট ফেরত নিলেন।
জাগো নিউজকে শরিফুল বলেন, এক বড় ভাই আসছেন। তিনি ৩১ আগস্টের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এজন্য টিকিট ফেরত দিয়েছি।
কথা হয় হানিফ কাউন্টারের ম্যানেজার সাদিক হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক বড় ভাই আছেন। তাদের কথা তো রাখতেই হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত টিকিট দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২৯ থেকে ৩১ আগস্টের ৯৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি শেষ। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ। অন্যান্য দিনের টিকিটও প্রায় ৫৫ ভাগ শেষ হয়ে গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু টিকিট সংরক্ষণ করা থাকে। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখবেন কিছু সার্জেন্ট এসে কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে যান। তাদের টিকিট দিতেই হয়। আমাদের এত বড় পরিবহন সার্ভিস, কিছু টিকিট তো হাতে রাখতেই হবে। নইলে সবাইকে ম্যানেজ করব কীভাবে?
প্রসঙ্গত, ১৮ আগস্ট থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাস কাউন্টারগুলো। তবে প্রথম দিন থেকেই অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত তারিখের টিকিট মিলছে না। বিশেষ করে ৩০ ও ৩১ আগস্টের টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হচ্ছে কাউন্টার থেকে।
কাঙ্ক্ষিত তারিখের টিকিট না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ অন্য তারিখের টিকিট নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

