তানোরে আদিবাসীদের বসত ভিটা উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোরে সরকারি খাস জায়গায় বসবাস করা ভূমিহীন এক আধিবাসী পরিবারের বসত ভিটা উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এঘটনায় সুষ্ঠ সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগী বাড়কু মূরমূ নামে এক ব্যক্তি গত রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চিনাশো কাউন্সিল মোড়স্থ পাঁচন্দর ইউপি কার্যালয়ের পিছনে চিনাশো মৌজার খাস খতিয়ানে আরএস ৩২ ও ৩৬ নম্বর দাগে ১২ শতাংস জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছেন ওই এলাকার ভূমিহীন মৃত বাসু মূরমূর পুত্র বাড়কু মূরমূ ও তার ভাই খারা মূরমূসহ পরিবারের ১৮ সদস্য।
তবে স্থানীয় একরাম আলী নামে এক ব্যক্তি গত একমাস আগে খারা মূরমূকে মাদক খাইয়ে নেশার ঘোরে তাদের বসত ভিটে স্ট্যাম্পে লিখে নেন। এ ঘটনার পরদিন থেকেই আধিবাসী ওই পরিবারকে উচ্ছেদ চেষ্টায় লিপ্ত হন একরাম। পরে জেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের শান্তির মোড় এলাকার আয়াতুন নূরের কাছে এক লক্ষ ৮৫ হাজার টাকায় স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই জায়গার পজিশন বিক্রি করে দেন একরাম আলী।
পজিশন ক্রয়ের পরদিনই আয়াতুন নূর তাঁর ক্রয়কৃত জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্যে গত বুধবার দুই ট্র্যাক্টর ইট ও বালু ফেলেন। এসময় ভুক্তভোগী আদিবাসী সাঁওতাল পরিবারের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে তাদের উপর চড়াও হন একরাম ও আয়াতুন নূরের লোকজন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বাড়কু মূরমূ জানান, বাপ দাদার আমল থেকে ওই জায়গায় বসবাস করছেন। কিন্তু কয়েক মাস থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে একরাম মরিয়া হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছেন। আমরা অসহায় তাদের সাথে লেগে পারব না। তিনি গায়ের জোরে আমাদের বসত জায়গা ঘিরেছেন।
বাড়কূ মূরমূর ৭৫ বছর বয়সি স্ত্রী দুলোন সরেন বলেন, এবয়সে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। একরামের ক্ষমতায় মনে হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। এছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্য সরেস , বিশু, রবি, বাসন্তিরা জানান, তারা একাধিকবার তাদের বসত ভিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে ক্ষমতার জোরে মারধর করেন একরাম ও তার লোকজনেরা। কিছুদিন আগে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বিশু মূরমূকে মেরেই ফেলতে লেগেছিল তারা। সেদিন প্রতিবেশিরা এগিয়ে না আসলে মারেই যেত সে।
এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত একরাম আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। কিন্তু আরেক অভিযুক্ত আয়াতুন নূর প্রতিবেদকে জানিয়েছেন, তিনি একরামের কাছ থেকে পজিশন কিনেছেন। তবে নামজারি করতে গিয়ে দেখেন ওই জায়গাটি খাস সম্পত্তি। ওই স্থান নিয়ে যদি আদিবাসীদের সমস্যা হয় তাহলে তার বাড়ী নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহা. শওকাত আলী জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, খাস জায়গা এভাবে বিক্রি করা যায়না। আর বাড়ী নির্মাণও করার যায়না। তবে অভিযোগ হাতে পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা বলে জানান তিনি

