কাস্তে হাতে নিয়ে ধান কাটলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী

নীলফামারী প্রতিনিধি:
কাস্তে হাতে নিয়ে নিজেই ধান কাটলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় ধান কেটে আগাম জাতের আমন কর্তন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর আয়োজনে আগাম ধান কর্তন উপলক্ষে মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ইদ্রিস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম, নীলফামারী পৌরসভা মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান প্রমুখ।

ইটাখোলা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ জানান, ৪শ কৃষক ১’শ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। ১১৪ দিনের মাথায় সেগুলো কাটা হলো। আমনের পর আলু বা সবজি, গম এবং পাট লাগানো যাবে একই জমিতে। তিনি বলেন, বছরে চারটি ফসল ফলানো সম্ভব আগাম জাতের ধান চাষ করে।

কৃষক সনু বর্ধন জানান, এবারে আড়াই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করেছেন তিনি। এই জাতের ধানে ব্যয় কম। পোকা মাকড়ের উপদ্রব নেই। যার কারণে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। তাছাড়া আশ্বিন-কার্তিক মাসে অভাব অনটনে পড়ে সংসারে। আগাম ধান বিক্রি করে শুধু টাকাই নয় বাড়তি হিসেবে খড়ও কাজে লাগানো যায়। বিঘা প্রতি ১৫ মন করে ধান হয়েছে বলে জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আগাম জাতের ধান হীরা-২১ এর চারা গত ২৭ জুন লাগানো শুরু হয় জেলাতে। ২২ দিনের লাগানো চারা ১১৪ দিনের মাথায় কর্তন করা যায়। উৎপাদন এবং ফলনও ভালো হয়েছে।

আয়োজক বিভাগের প্রধান গোলাম মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, মঙ্গা নিরসন, গো খাদ্যের অভাব পূরণ, আগাম আলু ও সবজি চাষ, কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান, কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি এবং জমিতে ফসল উৎপাদনের প্রকার বেড়েছে আগাম জাতের রোপা আমনের ফলে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘জমিকে ব্যবহার করে কাজে লাগাতে হবে। কিভাবে সেটা সম্ভব তা বের করতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন বিভাগগুলো কাজ করে যাচ্ছে। একই জমিতে কয়েকটি ফসল ফলানো যাচ্ছে এটা সরকারের সফলতা।’

তিনি বলেন, “এক সময়ের প্রবাদ ‘হাত্তিক ঠেলা যায় কিন্তুক কার্তিক ঠেলা যায় না।’ এই প্রবাদ এখন আর শোনা যায় না। মঙ্গা ডিকশনারিতে স্থান পেয়েছে। সেটা করা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতার কারণে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারী উপ-পরিচালকের দফতর সূত্র জানায়, নীলফামারী জেলায় আগাম জাতের আমন ধান ২০ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারী সদরে ৩৯৮৩ হেক্টর, সৈয়দপুরে ১২৮৫ হেক্টর, ডোমারে ২৬৯০ হেক্টর, ডিমলায় ৩৩১৭ হেক্টর, জলঢাকায় ৪১৮০ হেক্টর এবং কিশোরগঞ্জে ৪৫৬৫ হেক্টর।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: