‘মহাকর্ষীয় তরঙ্গ’ আবিষ্কারে পদার্থে নোবেলও পেলেন ৩ মার্কিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আলবার্ট আইনস্টাইনের শতাব্দী প্রাচীন মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সম্পর্কিত ধারণা প্রমাণ করায় পদার্থ বিজ্ঞানে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন মার্কিন পদার্থবিদ। তারা হলেন- রেইনার ওয়েসিস, কিপ থ্রোন এবং ব্যরি বরিশ। এদের মধ্যে রেইনার ওয়েসিস পাবেন পুরস্কারের অর্ধেক টাকা আর বাকি অর্ধেক ভাগ হবে অন্য দুজনের মধ্যে। এছাড়া এ বছরের চিকিৎসার নোবেল পুরস্কারও গেছে তিন মার্কিন বিজ্ঞানীর ঘরে।
৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি এই পুরস্কার ঘোষণা করেন।

এই বিজ্ঞানীরা তাদের ২৫ বছর ধরে চালানো গবেষণায় সূর্যের থেকে ৩৫ গুণ ভারী দুটি কৃষ্ণ গহ্বরের সংঘর্ষ থেকে উৎপন্ন মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করেন। ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ওই কৃষ্ণ গহ্বর দুটি পরস্পরের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে একপর্যায়ে একসঙ্গে মিশে যায়। ২০১৬ সালে এই আবিষ্কারে বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে দেওয়ার পর এ বছরের নোবেল পুরস্কার তাদের হাতে উঠতে যাচ্ছে।

পদার্থবিদ রেইনার ওয়েসিস ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এমিরেটাস অধ্যাপক। এই গবেষণায় তত্ব, পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং শেষ নির্মাণে বড় অবদান রাখেন। একারণেই পুরস্কারের অর্ধেক টাকা পেতে যাচ্ছেন তিনি।

এ ছাড়া কিপ থ্রোন কাজ করেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে। মহকর্ষীয় তরঙ্গ দেখতে কেমন ও শনাক্ত করার প্রক্রিয়া বিষয়ে তত্ত্ব হাজির করেছিলেন। আর ব্যারি বরিশ একই ইনস্টিটিউটের এমিরেটাস অধ্যাপক।

১৯৯৪ সালে এই পরীক্ষার উদ্যোগ নেন তিনি। তবে ঝুঁকির কারণে সেসময় তা বাতিল করে দেওয়া হলে ১৯৯৯ সালে নতুন করে গবেষণা শুরু করেন তিনি। তিন বছর পর মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পরিমাপ করতে সক্ষম হন তারা। বরিশের সঙ্গে কাজ করেছিলেন স্কটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রোনাল্ড ড্রেভার। তবে তরঙ্গ আবিষ্কারের ১৮ মাস আগেই মারা যান তিনি। আর মরণোত্তর নোবেল দেওয়ার রেওয়াজ না থাকায় পুরস্কারের তালিকায় থাকলেন না তিনি।

গত বছর পদার্থের টপোলজিক্যাল দশার দিশা দেখিয়ে পদার্থে নোবেল জিতেছিলেন তিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। এদিকে ২ অক্টোবর সোমবার চলতি বছরের চিকিৎসায় ঘোষিত নোবেল ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ আবিষ্কারে পুরস্কার পেয়েছেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী।

সূত্র: গার্ডিয়ান

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: