ঢাকা থেকে উদ্ধার হলো রাবির অপহৃত ছাত্রী

নিউজ ডেস্কঃ

অপহরণের ৩০ ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উম্মে শাহী আম্মানা শোভাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে অপহরণের পর বিকেল থেকে আন্দোলনে নামে তার সহপাঠি ও আবাসিক হলের ছাত্রীরা। শনিবার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ক্যাম্পাস ছিল উত্তল। শোভাকে উদ্ধারের আল্টিমেটামসহ সাত দফা দাবি পেশ করে তারা। অবশেষে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ মুখপাত্র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ঢাকা থেকে মেয়েকে উদ্ধার ও তার সাবেক স্বামী অপহরণকারী সোহেল রানাকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে রাজশাহীতে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আর বিস্তারিত আপনাদেরকে সংবাদ সম্মেলন করে পরে জাননো হবে।

উম্মে শাহী আম্মানা শোভা বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থী। শোভা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী আইনজীবী সোহেল রানা নওগাঁ জেলার পত্নীতলার নজীপুর গ্রামের আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের ছেলে। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হলেও দুই মাস আগে ডিভোর্স হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আন্দোলন শেষে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টায় তাপসী রাবেয়া হল থেকে ছাত্রীরা বের হতে চাইলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় ওই হলের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি আনন্দ কুমার সাহা আসেন। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই ছাত্রীর অবস্থান জানা গেছে। খুব তাড়াতাড়ি তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’ এসময় প্রক্টর অপহৃত ওই ছাত্রীকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী ওই হলের সামনে আসেন। এসময় ছাত্রীরা হলের গেটে ধাক্কাধাক্কি করে এবং স্লোগান দিতে দিতে বের হয়ে যায়। পরে তারা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে মানববন্ধন করে।

মানববন্ধন থেকে শোভাকে উদ্ধারসহ সাত দফা দাবি জানায় আবাসিক হলের ছাত্রীরা। অন্য দাবিগুলো হলো- ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মেয়েদের হল থেকে শিক্ষকদের আবাসিক রাস্তার মধ্যে দুইটা পুলিশ চেকপোস্ট দিতে হবে, প্রত্যেকটা হলের গেটে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেটে সিসি ক্যামেরা দিতে হবে, সান্ধ্য আইন বাতিল করতে হবে, প্রত্যেক হলে অভিভাবক প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং প্রত্যেক বিভাগকেই তাদের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখতে হবে।
পরে সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রীদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের সাথে সাক্ষাত করে এবং তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে। সাক্ষাত শেষে বেলা ২টার দিকে উদ্ধারের ব্যাপারে আশানুরূপ কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তারা বিকেলে আবারো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়। পরে তিনটার দিকে উদ্ধারের ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এদিকে উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, ‘মেয়েটিকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে রাজশাহী আনার প্রক্রিয়া চলছে।’
এর আগে শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় অপহরণকারীর বাবা জয়নুল আবেদীনকে নাঁওগার পত্নীতলা থানা পুলিশ আটক করে। মেয়ে অপহরণের ঘটনায় বাবা আমজাদ হোসেন মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, উম্মে শাহী আম্মানা শোভা তাপসী রাবেয়া আবাসিক হল থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বের হন রাংলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। হলের গেট থেকে ৫০ গজ এগোতেই তাকে জোর করে তার সাবেক ‘স্বামী’ একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান। মূলত ডিভোর্স ঠেকাতেই জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে বলে সহপাঠি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর জানান।

  •  
  •  
  •  
  •