ঠাকুরগাঁওয়ে কপি চাষিরা লোকসানের মুখে

নিউজ ডেস্কঃ

ঠাকুরগাঁওয়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাষিরা নায্যমূল্য পাচ্ছেন না।

ঠাকুরগাঁও জেলার বেশিরভাগ জমি উঁচু ও বেলে দোঁআশ। এসব জমিতে চাষিরা আগে ধান, গম ও পাট উৎপাদন করতেন। কিন্তু ফলন তেমন ভালো না হওয়ায় বারবার লোকসানের মুখে পড়তেন। সদর উপজেলার নারগুন, জগন্নাথপুর, বেগুনবাড়ি এবং বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার উঁচু জমিতে এখন তারা ধান রোপণ না করে সবজির আবাদ করছেন। এসব এলাকার মাঠের পর মাঠ শোভা পাচ্ছে করলা, লাউ, বেগুন, পটল, বরবটি, চিচিঙ্গা, শসাসহ নানান জাতের সবজির ক্ষেত। অল্প সময়ে সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখায় অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকও ঝুঁকে পড়ছেন সবজি চাষে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। জেলার বালিয়াডাঙ্গী , রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার অনেক জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি আবাদ করা হয়। বাজারে প্রথম দিকে প্রতি কেজি কপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতেন কৃষকরা। কিন্তু কমতে কমতে এই সবজির দাম এখন কেজিপ্রতি আট থেকে ১০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।
চাষিরা জানান, কপি উৎপাদনে প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে এই সবজির দাম যেখানে গিয়ে ঠেকেছে, তাতে চাষিরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। খুচরা বিক্রেতারা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হলেও চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ থেকে বাঁধাকপি ও ফুলকপি কৃষক পাইকারি বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও খুচরা বিক্রেতারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দাম নিচ্ছেন ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। একদিকে যেমন কৃষক নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ঠকছেন সাধারণ মানুষ।

বড়বাড়ী ইউনিয়নের কপি চাষি আব্দুল গফুর জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ২ একর জমিতে দুই ধরনের কপি চাষ করেছেন। ফুলকপি তোলা পর্যন্ত ২ একর জমিতে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি একরে ফলন হয়েছে দেড়শ’ মণ কপি। তিনি বলেন, শুরুতে কপির ভালো দাম পেলেও বর্তমানে কপি মাঠ থেকে তোলা ও বিক্রি নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছি। মাঠ থেকে কপি তুলে বাজারে নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ প্রতিমণে ৫০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মণ দামে কপি বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

আব্দুর রহিম নামে অপর একজন জানান, ফুলকপি মাঠ থেকে কাটলে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না। কারণ কপি কেটে বস্তায় করে বাজারে আনতে দাগ পড়ে। দিনের মধ্যেই বিক্রি করা না গেলে লোকসান হয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক খন্দকার মাওদুদুল ইসলাম জানান, সবজি যখন বাজারে নতুন আসে তখন বাজারে দাম বেশি পাওয়া যায়। আর বাজারে আমদানি বেড়ে গেলে কমে যায় সবজির দাম। তিনি আরো জানান, এককজন চাষি একেকটি ফসল একবার উৎপাদন করলে লাভবান হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। কিন্তু একবার কোন চাষি বেশি লাভবান হলে পরের বছর অন্য চাষিরাও ওই একই ফসল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছেন।

এবার রবি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় সবজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৫১ হাজার ৫২৫ মে. টন। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪২০ হেক্টর জমি।

  •  
  •  
  •  
  •