ছোলার যত পুষ্টিগুণ

নিউজ ডেস্কঃ

ছোলা আমারা নানা রকম ভাবে খেতে পারি। কাঁচা, সেদ্ধ, তরকারি বা ভাজা। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে খোসা ছাড়িয়ে আদা দিয়ে খেলে এক সাথে দুইটি উপকার পাওয়া যায়। তা হল আমিষ ও এন্টিবায়োটিক। এন্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শরীরকে সুস্থ রাখে আর আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান করে রাখে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ছোলার কিছু অজানা উপকারী তথ্য।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখেছেন যে খাবারে সাথে ছোলা খেলে শরীরে টোটাল কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল উভয় এর পরিমান কমিয়ে আনে। ছোলাতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় উভয় আঁশ থাকায় তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে: যৌনশক্তি বৃদ্ধি করতে ছোলার গুরুত্ব অপরিসীম। শ্বাসনালিতে জমে থাকা পুরোনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ও ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাই শুধু রমজান মাসই নয়, নিত্য দিনই ছোলা হোক আপনার পছন্দনীয় খাবার।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে, যে সকল অল্প বয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ: এক গবেষণাই প্রমানিত হয় যে, বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করুন, নিজেকে সুস্থ রাখুন।

রক্ত চলাচল: ভিন্ন এক গবেষণাই দেখা গেছে যে যাদের প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে গেছে।

এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা। সালফার নামক খাদ্য উপাদানের বসতিও এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি।

  •  
  •  
  •  
  •