উত্তর কোরিয়ার উপর নিষেধজ্ঞা আরোপে জাতিসংঘের প্রশংসায় ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রস্তাবের কারণে কড়া সমালোচনা করলেও এবার সংস্থাটির প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জেরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রশংসা করেন। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি চায়, মৃত্যু নয়’।

যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার পরিশোধিত তেল আমদানি শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীন ও রাশিয়াও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়েছে। দেশটির উপর আগে থেকেই জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

এর আগে জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রত্যাখানের প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপক ভোটে পাস হয়। এরপর ট্রাম্প জাতিসংঘের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তারও আগে ট্রাম্প জাতিসংঘকে ‘সামাজিক ক্লাব’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। দায়িত্বের এক বছরের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের অর্জন করতে চাওয়া ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমনীতির পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করায় ট্রাম্প ও জাতিসংঘের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে এর মধ্যেই ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করলেন।

টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি ১৫-০ ভোটে পাস হয়েছে। বিশ্ব শান্তি চায়, মৃত্যু নয়।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশটি আরও শাস্তি পাবে। আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’ তিনি উত্তর কোরিয়াকে আধুনিক বিশ্বে অমঙ্গলের সবচেয়ে দুঃখজনক উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

পরমাণূ অস্ত্র দমনের জন্য উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া সর্বশেষ ব্যবস্থাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ‘বেপরোয়া আচরণে’র নিন্দা জানাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাত্মতা প্রদর্শন করেছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিকে ‘জটিল ও স্পর্শকাতর’ উল্লেখ করে সব পক্ষকে ‘ধৈর্য্য ধারণ করে উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় উদ্যোগ’ নেওয়ার আহ্বান জানান।

উত্তর কোরিয়া এবছর পরমাণু পরীক্ষার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বৃদ্ধি করার পর থেকে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে। গত ২৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনার জেরে জাতিসংঘের এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।

এর আগে পরমাণু হামলার চেষ্টা করলে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর উত্তর কোরিয় নেতা কিম জং উন ট্রাম্পকে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: