বাকৃবিতে ‘ইলিশের স্যুপ, ইলিশের নুডলস তৈরী’ শীর্ষক কর্মশালা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ইলিশ মাছ কে না পছন্দ করেন! ইলিশ দিয়ে নানা পদের রান্না কমবেশি সবাই জানেন, চেনেন। তাই বলে ইলিশের স্যুপ, নুডলস! যে কেউ বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলবেন। তবে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা ইলিশের কিউব দিয়ে স্যুপ ও নুডলস তৈরির এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য দেন ইলিশের স্যুপ ও নুডলসের উদ্ভাবক অধ্যাপক এ কে এম নওশাদ আলম।

তিনি বলেন, ইলিশ অধিক আমিষ ও চর্বির মাছ। তবে ইলিশের চর্বি মোটেও ক্ষতিকর নয়। চর্বিতে বিদ্যমান ওমেগা-৩ নামক অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখে। ফলে সারা বছর ক্রেতারা ইলিশের স্বাদ পূরণ করতে পারবেন এই স্যুপ ও নুডলসের মাধ্যমে।
নওশাদ আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মৎস্যপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। বাউরেস পরিচালক অধ্যাপক এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে ‘ইলিশের স্যুপ ও নুডলস প্রস্তুতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে নওশাদ আলম বলেন, এক হাজার টাকা দামের একটি ইলিশ থেকে ছোট আকৃতির ২০০টি কিউব তৈরি করা সম্ভব। প্রতিটি কিউবের বাজারমূল্য ২০ টাকা। একটি কিউব দিয়ে ইলিশের হুবহু স্বাদের এক-দুজনের জন্য স্যুপ তৈরি করা সম্ভব। ইলিশের স্বাদ অপরিবর্তিত রেখে কিউবগুলোকে রেফ্রিজারেটরে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। ইলিশ সংরক্ষণের এই প্রযুক্তি বিশ্বে প্রথম। বিশেষ পদ্ধতিতে ইলিশের নুডলসও তৈরি করা হয়েছে। সারা বছর যে কেউ সাশ্রয়ী মূল্যে ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আকবর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. জসিমউদ্দিন খান, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের গবেষক বান ব্রাকেল মার্টিন লুইস উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আকবর বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে স্বল্প আয়ের মানুষেরাও সারা বছর ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। এটা সত্যিই আনন্দের বিষয়। তা ছাড়া ইলিশের স্যুপ ও নুডলস রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, ইলিশের মূল্যমান বৃদ্ধিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইকোফিশ প্রকল্পের সহায়তায় দুই বছর গবেষণা করে নওশাদ আলম ইলিশ সংরক্ষণের এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। ভারগো ফিশ অ্যান্ড এগ্রো প্রসেস লিমিটেড শিগগিরই দেশব্যাপী স্যুপ তৈরির ইলিশের কিউব এবং নুডলস বাজারজাত করবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবক। পরে কর্মশালার ব্যবহারিক সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, আমন্ত্রিত গবেষক ও অতিথিরা অংশ নেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: