দ্বিতীয় মেয়াদেও রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন আবদুল হামিদ!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন উপলক্ষে রাতে বৈঠকে বসবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড। এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। আর সংসদের সংখ্যারষ্ঠিতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীই হবেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও এ পদের প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন হবে না। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদই ফের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
তাদের মতে, ২০১৮ সাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের। আওয়ামী লীগ চাইছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ফের ক্ষমতায় আসতে। বিএনপি এই নির্বাচনকে নিজেদের ‘অস্তিত্বের প্রশ্ন’ হিসেবে দেখছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বেশি ক্ষমতাধর হলেও নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রপতির অধীনে হওয়ায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ৫ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন হবে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।
বুধবার রাত ৮টায় এ পদে মনোনয়ন জন্য আওয়ামী লীগের সংসদসীয় বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। গণভবনের ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এতে বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কে আসছেন- এ নিয়ে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিসহ সব দলেরেই আগ্রহ। কারণ এর উপর নির্ভর করছে কেমন হবে আগামীর রাজনৈতিক পরিবেশ। শেষ পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কেমন হতে পারে।
২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২৪ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন আবদুল হামিদ। পরে ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্পিকার হিসেবে দু’বার দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক মাঠের এ দক্ষ খেলোয়াড় ইতিমধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সামাল দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এসব পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠছে। আর সে পরিবেশ মোকাবেলায় পরীক্ষিত, আস্থাভাজন এবং সাহসী রাজনীতিবিদ মো. আবদুল হামিদকেই পছন্দ আওয়ামী লীগের।
আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘বর্তমান রাষ্ট্রপতিসহ ৪/৫জন প্রার্থী আছে। তবে চূড়ান্তভাবে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন, সেটি রাতের বৈঠক শেষে বলা যাবে।’
আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের আরেক সদস্য রশিদুল আলম বলেন, ‘আইন ও বিচারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অর্গান রাষ্ট্রপতির অধীনে। অতএব এখানে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক লাগবে। এক্ষেত্রে আলোচনায় যেসব প্রার্থীরা তার মধ্যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদই বেশি অভিজ্ঞ।’
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপাতি পদের জন্য দলটিতে ইতোমধ্যে আলোচনায় ওঠে এসেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা।
এর মধ্যে আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা। আবার দলের প্রতি আনুগত্য থাকলেও তিনি এই পদটিকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখতে পেরেছেন বলেই ধারণা করা হয়। আর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে তার বিষয়ে তেমন কোনো সমালোচনা আসেনি এখন পর্যন্ত।
এছাড়া সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দল ও দেশে বেশ জনপ্রিয় হলেও দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা তার সব সময়। তবে তাকে দায়িত্ব দিলে বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করেন বলে ইতিবাচক আলোচনা আছে।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিবেচনায় স্পিকার শিরীন শারমিন আলোচনায় আসলেও সংকটে তিনি যুৎসই নয় বলে মনে করেন অনেক নেতা। তবে আবদুল হামিদ না হলে আবুল কালাম আজাদের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন তারা।
আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরের পদে ছোটবোন শেখ রেহানা বেমানান, বা তিনিও আসতে চাইবেন না। এসব কারণে সেটিও হচ্ছে না। সব মিলিয়ে মাঠে আবদুল হামিদের সুযোগ বেশি।
স্বাধীনতার পর থেকে এখন আবদুল হামিদসহ ২১ মেয়াদে ১৭ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারে ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদই আসার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ঘোষনার অপেক্ষা তো থাকছেই।

