পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন: চাষীদের মুখে হাসি
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পাহাড়ে আগাম উৎপাদন হচ্ছে ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস। মৌসুমের চেয়ে আগেই ভালো ফলনে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষীরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রসালো আনারস যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।
চাষীরা বলেন, মৌসুমে আনারস আমাদের যে দরে বিক্রি করতে হয়, তার চেয়ে আমরা এখন আরো ভালো দামে বিক্রি করতে পাচ্ছি। যেখানে প্রতি জোড়া আনারস আমাদের ১০-১২ টাকা বিক্রি করতে হতো, সেখানে আমরা এখন ২০-৩০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি।
নানিয়ারচরের আনারস চাষী সুবিমল চাকমা বলেন, মৌসুমে নানিয়ারচর থেকে নৌকার করে আনারস এনে লোকসানেও বিক্রি করতে হয়। এখন আগাম ফলনের কারণে বাজারে চাহিদা থাকায় মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছি।
আনারস বিক্রেতা শাহিন আহম্মদ বলেন, আগাম ফলনের কারণে আমরা ভালোই আনারস বিক্রি করছি। এখন প্রতি জোড়া বড় সাইজের আনারসের দাম ৪০ টাকা। আর ছোট সাইজেরগুলো জোড়া ৩০ টাকায় বিক্রি করছি।
রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ে সাধারণত দুই ধরনের আনারসের চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে হানিকুইন জাতের আনারস সারা বছরই আবাদযোগ্য। তবে জায়েন্ট কিউ জাতের আনারস মৌসুম ছাড়া ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাষীরা হানিকুইন জাতের আনারস চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পবন কুমার চাকমা বলেন, আগাম ফলনের কারণে কৃষকরা লাভবান হয়। আনারসের মৌসুমে কৃষকরা প্রতি জোড়া আনারস যেখানে ১০-১২ টাকা বিক্রি করতেন সেখানে আগাম ফলনের কারণে প্রতি জোড়া আনারস ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি করতে পারছেন।
‘গতবছর রাঙ্গামাটিতে প্রায় ১৮’শ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে। এবছর চাষ আরো বেড়েছে, কৃষি বিভাগ আশা করছে গত বছরের তুলনায় এ বছর পাহাড়ে আনারসের ফলন আরও বাড়বে। আশা করছি প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টনের অধিক লক্ষ্যমাত্র ছাড়বে,’ বলেন কৃষিবিদ পবন।
তিনি বলেন, রাঙ্গামাটিতে বিশেষ করে হানিকুইন জাতের আনারস ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। এর মধ্যে নানিয়ারচর ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় আগাম চাষ করা হয়। তবে বাঘাইছড়িতে কিছু চাষ হলেও আগাম চাষ হয় না।
তিনি বলেন, সারা বছর কৃষকরা কীভাবে আগাম আনারস চাষ করবে এবং কোন চারাটা চাষ করবে, কখন হরমোন প্রয়োগ করবে এই বিষয়ে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী কৃষকরা আগাম আনারস চাষে অধিক লাভবান হবেন।

