রফতানি কমেছে কৃষিপণ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত অর্থ বছরের (২০১৪-১৫) জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে মসলা জাতীয় পণ্যের রফতানি বাড়লেও চা, সবজি ও তামাকসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের রফতানি কমেছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, কৃষিজাত পণ্য রফতানিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে এ খাতে আয় হয়েছিল ৩২ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ১৮. ৫৮ শতাংশ কমেছে।

তবে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে মসলা জাতীয় পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার; যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৪৩ শতাংশ বেশি।

একইসঙ্গে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে কৃষিপণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ২৮ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫.২৯ শতাংশ কম বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।

কৃষিপণ্যের মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে চা, তামাক, মসলা জাতীয় পণ্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হলেও সবজি, কপি, ফল ও শুকনো খাবার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। আলোচ্য সময়ে মসলা জাতীয় পণ্য রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৪ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে এই খাতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০.৫৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মসলা জাতীয় পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে চা রফতানিতে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮.৪২ শতাংশ বেশি। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.২১ শতাংশ কম বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে এ খাতে। আলোচ্য সময়ে তামাক রফতানিতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০.৮১ শতাংশ বেশি। তবে গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় এ খাতের আয় ২৫.১৪ শতাংশ কম।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে শুকনো খাবার রফতানিতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতে রফতানি আয় ২.৫৬ শতাংশ বাড়লেও অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২.১০ শতাংশ কম বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে শুকনো খাবার রফতানিতে।

আলোচ্য সময়ে সবজি রফতানিতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। যা এই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২.৬৯ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬.০৩ শতাংশ কম। একই সময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি রফতানিতে আয় হয়েছে ৪২ লাখ ৩০ হাজার মার্কি ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮.৮১ শতাংশ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯.০৩ শতাংশ কম।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ফল রফতানিতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.৪০ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের তুলনায় ৩৫.৫৯ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে অন্যান্য কৃষিপণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫.৫৩ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের তুলনায় ১৫.২৩ শতাংশ কম।

  •  
  •  
  •  
  •