ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলো ৫২ বাংলাদেশি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে শিশুসহ ৫২ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ।

সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে রৌমারী থানা পুলিশ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম, রৌমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত-ওসি) মোন্তাছির বিল্লাহ্ ও রৌমারী চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদ।

ফেরত আশা বাংলাদেশিরা হলেন- গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থানার শাতিকুন্ডা গ্রামের আবুল কালাম (৩৫), কাশিয়ানি থানার সাতাশিয়া গ্রামের রাহুল খা (৪৭), কুমিল্লার লাকসাম থানার মুরহু (মাহ্মুদবাড়ী) গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪৩), ব্রাহ্মণপাড়ার দক্ষিণ জংগল শুলতুপুর গ্রামের পলাশ মিয়া (৩৪), দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার কুড়াইল গ্রামের সামিরুল বাবু (৩৯) ও কোতোয়ালি থানার পূর্ব রামনগর গ্রামের উত্তম রায় (৪১), পিরোজপুরের কায়োলি থানার চিরাপাড়া গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক ফরাজী (৩৮), সিলেট সদর কোতোয়ালি থানার শিলাম গ্রামের আব্দুল কাদের শেখ (৭০), সিলেট থানার বিছানাকান্দি (গঞ্জহাট) গ্রামের রশিদ আহমেদ (৩৫), মৌলভীবাজার থানার শুমরকুড়া গ্রামের কছর আলী (২৪) ও শ্রীমঙ্গল থানার সিরাজনগর গ্রামের ছুকরামনি দেব।

কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাজাইকাটা গ্রামের নুরুজ্জামান (৩৬), বেহুলার চর গ্রামের নজরুল ইসলাম (১৯), উলিপুর থানার মেকুরের আলগা গ্রামের আবু সাঈদ (৩৯), কাঁচাবাচা গ্রামের আজিজুর মন্ডল (৪৯), রৌমারী থানার চর ফুলবাড়ী গ্রামের ইসকান্দার আলী (৫৬), কুচাকাটা থানার কারিজাপাড়া গ্রামের আব্দুল সামাদ আলী (৩২), ধালুয়াবাড়ী গ্রামের শাহিদুল ইসলাম (৩৯)।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার কানধুয়া গ্রামের শাহিদুল ইসলাম (৪২), ঝিনাইদহের হরিনাকান্দা থানার চরপাড়া গ্রামের জসিম মন্ডল (৩৬), চট্টগ্রামের বাসাইল থানার পূর্ব শেওরিয়া গ্রামের সুজন দাস (৩৯) ও কোতোয়ালি থানার স্টেশন কলোনি গ্রামের মোহাম্মদ আলী (২৮), সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার হরিনাথ পুর গ্রামের মঞ্জু খান (৪২), শাহজাদপুর থানার শান্তসা গ্রামের ফজলুল মন্ডল (৩৮) ও মান্নান হাসান (৯), মাদারীপুরের শিবচর থানার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুল আজিম শেখ (২৯), গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার কাশিমপুর গ্রামের কাঞ্চন আলী হাওলাদার (৭২), চরোবটি থানার চুরাবাড়ী গ্রামের মুসা মিয়া (৪৭)।

গাইবান্ধার সদর থানার বলামগর গ্রামের বাবুল মিয়া (৪০), সুন্দরগঞ্জ থানার বাজারপাড়া গ্রামের আশরাফুল (৩৬), বাঘেরহাটের নাজির পুর থানার কুমারপুর গ্রামের নুর ইসলাম (৩৩), বরিশালের কোতোয়ালি থানার উত্তর পানবাড়িয়া গ্রামের সোহেল শরিফ (৩০), ময়মনসিংহের ভালুকা থানার রবিন বাহ্মন (৩৯) ও ত্রিশাল থানার আমিরাবাড়ী গ্রামের আব্দুল আওয়াল (৬১), লালমনিরহাটে কাহারোল থানার কাঞ্চনালপুর গ্রামের নিথাই চক্র দাস (৩৯), নেত্রকোনার কাহালিয়াজুরি থানার মুরাদপুর গ্রামের গোপান চন্দ্র সরকার (৪২), ঢাকার পল্লবী থানার মাহুরাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৩৭), শ্রীনগর ও দোহার থানার মেঘহিয়া গ্রামের মজিবুর রহমান (৪১)।

শেরপুরের চর শাহেবদী গ্রামের ইয়ার খান (৩৬), কেষ্টপুর গ্রামের মোখলেস আলী (৪৩), জিনাইগাতি থানার জিনাইগাতি গ্রামের মোস্তফা আলী (৪৮), মরজিনা বেগম (৩৮), জামালপুরের পাতালিয়া গ্রামের আবু বক্কর, ইসলামপুর থানার মাজবাড়ি গ্রামের সামিমা বেগম (২৮), সাবিরন বেগম (৩৩), জরিফা বেগম, নরসিংদীর রায়পুর গ্রামের জাহানার বেগম (২৬), বিপাড়া গ্রামের ইনসানা খাতুন, নড়াইলের নারাকাতি থানার চৌরিকাতি গ্রামের জুয়েল খান, চাঁদপুরের বসিরউল্লা ডাক্তার বাড়ী গ্রামের মমেনা আক্তার (৩৮) ও ফরিদপুরের নাগরকান্দা থানার বিবাদী গ্রামের লোকমান শেখ (৪৮)।

এর আগে রোববার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রৌমারী উপজেলার ভারতের মেইন পিলার ১০৬৫ এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ এর উপস্থিতিতে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে ভারতের মানকার চর ইমিগ্রেশন পুলিশ।

রৌমারী চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনর রশিদ বাংলানিউজকে জানান, শিশুসহ ৫২ নারী-পুরুষকে রৌমারী থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় পুলিশ। এর মধ্যে ৯ নারী ৪৩ জন পুরুষকে (রৌমারী থানা ও বিজিবি) গ্রহণ করেছে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, হস্তান্তরকৃতরা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ায় সময় ভারতের শালমারা ও মানকার চর পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করার পর বাংলাদেশ-ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগোযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •