বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা
সনজিৎ কুমার মহন্ত, রংপুর প্রতিনিধি:
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে রংপুরের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক অবস্থাতেই ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত সেসন জট রয়েছে বিভিন্ন বিভাগে। এর মধ্যে বর্তমানে চলমান আন্দোলন কতদিন চলবে সে পর্যন্ত সেসন জট আরো বাড়তে পারে বলেই আমঙ্কা করছে শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখা, গ্রেড সমস্যা নিরসন, পৃথক স্কেলের দাবিতে ৮ মাস ধরে চলা শিক্ষকদের আন্দোলনটি ১১ জানুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচিতে রূপ নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
চলমান আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীরা মনে করেন ‘শিক্ষকের মর্যাদা সবার ওপরে’। তবে তারা কিছুতেই শিক্ষকদের পদ অবনমন সমর্থন করেন না।
ক্লাস বন্ধের আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থী নাসরিন বলেন, ‘এমনিতেই কোর্স কমপ্লিট হয়নি। তার ওপরে চলমান বিভিন্ন পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে আমাদের সেসন জটে পড়ার সম্ভাবনা আরো বেড়ে গেল। শিক্ষার্থী অশিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাশ ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা বললেন, ‘এমনিতেই আমরা কয়েক মাসের সেশনজট সঙ্গী করে চলেছি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, দেশে এই প্রথম সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে আন্দোলনে নেমেছেন। অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় তাদের আগের চেয়ে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এজন্য যতদিন আমাদের ন্যায্য দাবী সমূহ পূরণ না হচ্ছে ততদিন এ আন্দোলন চলবে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেরোবির এক শিক্ষক বলেন, ‘ক্লাস বন্ধ থাকলে সুফল হয় না। আর আমরা শিক্ষকরাও আমাদের উপযুক্ত স্থান শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বাইরে থাকতে চাই না। তবে আন্দোলনের এখন যে পর্যায়ে আছে তাতে ঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতাও দেখি না। প্রজ্ঞাপন জারি করে আমাদের ৪ দফা মেনে নিলে তবেই আন্দোলন প্রত্যাহার হবে।’
শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে বন্ধের সময় বাড়তি ক্লাস নিয়ে পুষিয়ে দেবেন বলে মত প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক।

