এক মাসে আড়াই হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়েছে: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গত এক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আরো অন্তত আড়াই হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
আলজাজিরা ও আনাদলুর খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও দেশটির বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে গত মাসে শুরু হওয়া সংঘর্ষের কারণে এসব রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং উদ্বাস্তু হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয়তা জানতে জাতিসংঘের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিহতের পর থেকেই আতঙ্কে ছিল সংখ্যালঘু এ সম্প্রদায়টি। তার মধ্যেই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। পুলিশের কয়েকটি চেকপোস্টে হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অভিযান চালানো হয়।
ভয়ংকর ওই অভিযানের শিকার হয়ে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর আগে জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণধর্ষণ, গণহত্যা- নারী ও শিশুসহ- বর্বর নির্যাতনের পাশাপাশি অনেককে গুম করেছে। জাতিসংঘের তদন্ত দল তাদের প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে অভিহিত করেছে।
ওন্টারিয়ো ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ওআইডিএ) নামের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বলেছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যাদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি বিল পাস করেছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

