তানোরে জমেছে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ

মিজানুর রহমান, তানোর সংবাদদাতা:
রাজশাহীর তানোরে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন মৌ খামারীরা। বিশেষ করে উপজেলার কলমা ও কামারগাঁ ইউপির বিশাল সরিষার ক্ষেত থেকে এ মধু সংগ্রহ করছেন তারা। এমন উপায়ে মধু সংগ্রহ দেখতে আশাপাশের উৎসুক জনতা ভীড় জমাচ্ছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীখন্ডা বাতাসপুর এলাকায় বিস্তৃর্ণ সরিষা ক্ষেত। ক্ষেতের প্রতিটি গাছে হলুদ ফুলে ভোরে গেছে। সেই ফুলের হলুদ রঙ্গে মুগ্ধ হচ্ছে মানুষ। সেই হলুদ ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার জন্য পাশের মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট এলাকার সততা নামের মৌ খামার এসেছেন মধু সংগ্রহ করতে। সততা মৌ খামারের তিনজন খামারী গত ৫ জানুয়ারী থেকে সেখানে মধু সংগ্রহ শুরু করেছেন।

চারদিকে শুধু সরিষার হলুদ ফুল আর ফুল। ফুলে বসানো হয়েছে মৌমাছি। চারদিকে শুধু মৌ মৌ ডাক। সরিষার ক্ষেতে এক হাত পর পর দেয়া কাঠের রঙ্গেন বক্স। সেই বক্সের ভিতরে আছে ফ্রেম। ফ্রেমে থাকে মৌমাছি। একটি করে ফ্রেমে অন্তত ১ হাজারটি মৌমাছি রয়েছে। ফ্রেম থেকে মৌমাছি বের করে মধু ভর্তি ফ্রেম দেয়া হচ্ছে রিফেন্ড মেশিন। দুই থেকে তিনটি করে ফ্রেম ঢুকানো হচ্ছে মেশিনে। হাত দিয়ে ঘুরিয়ে মেশিনের নিচে পাইপ দিয়ে চলে আসছে মধু। তিনজন এ কাজের সাথে সংযুক্ত।

তার নিকট আত্মীয় সততা মৌ খামারের পরিচালক আলফোর জানান, ২০১২ সাল থেকে এভাবে মধু সংগ্রহ করে আসছেন তিনি। এসএসসি পাশ করে দিনাজপুর বিসিক এলাকায় মধু সংগ্রহের যাবতীয় কার্যক্রম সফল করতে নিয়েছেন এক বছরের ট্রেনিং। গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয় নি। তবে, আগামীতে এইচএসসি দেবার ইচ্ছা আছে তার। প্রথম অবস্থায় মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে তার পুঁজি দাড়িয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

তিনি জানান, তার চাকুরী করার কোন ইচ্ছে নেই। তার সাথে ফ্রেম উঠানো নামানোসহ যাবতীয় কাজে সহযোগীতা করছেন তার বড় ভাই দেলফোর। আর দুলাভাই কামরুল রিফেন্ড মেশিন ঘুরিয়ে বের করছেন মধু। মেশিনটি রাখা হয়েছে রাস্তার পাশে মশারির ভিতরে।

অদ্ভুত ব্যাপারে অনেকক্ষণ থাকার পরেও কোন মৌমাছি আঘাত করেনি শরীরে। তবে আলফোর পরিয়ে দেয় মশারির মত মাথা, মুখ রক্ষার্থে এক জাতীয় রক্ষা কবচ। তারাও পরে ছিলেন এমন রক্ষা কবচ। হাতে দেয়া আছে মোজা, পায়ে জুতা। শরীরের কোন জায়গায় যেন আঘাত না করতে পারে মৌমাছি। আফলোর বক্সের মধ্যে থেকে ফ্রেম বের করছিলেন। এসময় এ প্রতিবেদকের মাথায় মুখে মুখোশ পরিয়ে সাবধানে কার্যক্রমগুলো দেখান তিনি।

আলফোর আরো জানান, শুধু সরিষা ফুলে নয়। এখান থেকে ফেব্রুয়ারী মাসে যাবেন নাটোরে। সেখানে ফেব্রুয়ারী মাসে কালজিরা চাষ হয়। মধু সংগ্রহের জন্য যাবেন সেখানে। মার্চে যাবেন দিনাজপুর লিচু বাগানে। তীলের জন্য বিখ্যাত মে ও জুন মাসে পঞ্চগড় জেলায় গিয়ে মধু সংগ্রহ করবেন।

তারা এ পর্যন্ত সরিষার খেত থেকে চার থেকে পাঁচ মন মধু সংগ্রহ করেছেন। এমনই কথা জানিয়ে কেশরহাট এলাকার মৌমাছি খামারের মালিক কামরুজ্জামান জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে মধু সংগ্রহ করছেন। এ সরিষা থেকেই মিলছে খাঁটি তেল, গরুর স্বাস্থ্যকর খাবার, খৈল, জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে সরিষার গাছ। আধুনিক ভাবে চলছে মানবদেহের অন্যতম সুষম খাবার মধু সংগ্রহ। মধুতেই শিশু থেকে শুরু করে অনেকের অনেক রোগবালাই দূর হয়। তাইতো কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক ভাবে হয়েছে সরিষা চাষ। আর এই সরিষা থেকে সংগ্রহ করা মধু।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: