পাকিস্তানি পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসালো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলার পর দিনই পাকিস্তানের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন (এমএফএন)’ বা সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ-এর তকমা কেড়ে নিয়েছিল ভারত। এবার দেশটি থেকে আমদানিকৃত সব জিনিসের ওপর ২০০ শতাংশ আবগারি শুল্ক চাপিয়ে দিলো নয়াদিল্লি। ফলে বাণিজ্যিকভাবে ইমরান খানের দেশ আরও বেকায়দায় পড়লো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সেই হামলায় নিহত হয়েছে ৪৯ জন ভারতীয় জওয়ান।

পাকিস্তানকে ‘উচিত শিক্ষা’দিতে প্রথমেই বাণিজ্যিকভাবে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে যাতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায়, কূটনৈতিক স্তরে সেই প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত। আর তার প্রথম পদক্ষেপ হলো এমএফএন-এর তকমা প্রত্যাহার এবং দ্বিতীয় ধাপটা কী হবে শনিবারই ঘোষণা করে দিয়েছিল কেন্দ্র।

ওই দিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি টুইট করে জানান, “পুলওয়ামার ঘটনার পর পাকিস্তানের এমএফএন তকমা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ভারত। এবার সে দেশ থেকে আমদানিকৃত জিনিসের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করা হলো।”

এমএফএন স্টেটাস কী?

ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও)-র সদস্য দেশগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনও দেশ অন্য একটি দেশকে এই এমএফএন স্ট্যাটাস দিতে পারে। এর ফলে বৈষম্যহীন বাণিজ্যের সমস্ত রকম সুযোগ পায় এমএফএন স্ট্যাটাসপ্রাপ্ত দেশটি। এমএফএন স্ট্যাটাসপ্রাপ্ত দেশকে বৈদেশিক বাণিজ্যে ছাড়, অতিরিক্ত কিছু সুবিধা, শুল্ক হ্রাস ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফস বা গ্যাট চুক্তির প্রথম ধারাতেই এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ডব্লিউটিও-র সদস্য দেশ হিসেবে অন্য দেশগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে সুযোগ-সুবিধা পায় সেগুলিও পেয়ে থাকে এই এমএফএন স্ট্যাটাসপ্রাপ্ত দেশ।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এমএফএন তকমা তুলে নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে অনেকটা দুর্বল করে দেওয়া যাবে। কারণ এই তকমা তুলে নেওয়া মানে দুই দেশের মধ্যে যে বার্ষিক বাণিজ্য তা কমে গিয়ে ২০০ কোটিতে ডলারে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই হবে পাকিস্তানের কাছে বড় ধাক্কা।

কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলওয়ামার হামলায় ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে ভারত যে পদক্ষেপ নেবে তাতে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। হামলার তীব্র নিন্দা করেছে বিভিন্ন দেশ। ‘জঙ্গি’দের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও চাপ বাড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানের ওপর। ফলে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক ভাবে সাঁড়াশি চাপে পড়েছে পাকিস্তান।

  •  
  •  
  •  
  •