বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা তাদের কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন। মঙ্গলবার চলমান কর্মসূচির বিষয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা।
ফলে দীর্ঘ ৯ দিনের কর্মবিরতি ছেড়ে শিক্ষকরা বুধবার থেকে ক্লাসে যোগদান করবেন বলেন জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন নেতারা তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিকেল সোয়া ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের মুজাফফর অাহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শুরু হয় বৈঠক। চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অাসা শিক্ষক ফেডারেশনের নেতারা অংশ নেন। ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন অাহমেদের সভাপতিত্বে চলে এই বৈঠক।
ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ মিলনায়তনে প্রায় এক ঘণ্টার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য এর আগেই কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন নীলদল। মঙ্গলবার বেলা ১টায় টিএসসি মিলনায়তনে নাজমা শাহীনের সভাপতিত্বে আলোচনায় বসে তারা এ ঐক্যেমতে পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সদস্য প্রফেসর ড. নিহামুল হক ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছি। আমরা মূলত নিজেদের করণীয় বিষয়ে এ আলোচনায় বসি।’
এসময় তিনি আরো বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে সঙ্কট কাটবে বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এখন যদি আমলারা ঝামেলা করেন বা যেকোনো কারণে দাবি আদায় পিছাতে থাকে তাহলে আবার আমরা আন্দোলনে ফিরবো।’
সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে গণভবনে পিঠা উৎসবের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালসহ আটজন শিক্ষক নেতা ছাড়াও সরকারের তিন সচিব অংশ নেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, শিক্ষকদের ৩ নম্বর গ্রেড থেকে ১ নম্বর গ্রেডে উন্নীতের জন্য পদোন্নতির সোপান তৈরির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ১ নম্বর গ্রেডে যেতে অন্যান্য দাবি-দাওয়া বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অষ্টম বেতন কাঠামোতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি অধ্যাপক পদের ‘অবনমন’ ঘটেছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। মর্যাদা ও বেতন প্রশ্নে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলনের পর গত ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সপ্তম বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৩ এ উন্নীত হওয়াসহ যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসতেন তা বহাল রাখার জন্য প্রস্তাব করেন শিক্ষকরা।
এছাড়া গ্রেড-১ থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষককে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা প্রদানের জন্যও প্রস্তাব করা হয়।

