রাবি শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ চার শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গতকাল রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিহাব আল কুরাইশ (২০) নামের এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মতিহার থানায় রবি, শান্ত, সিরাজুল, উষা, শিপন, জনিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫জনকে আসামি করে নারী নির্যাতন ও হামলার অভিযোগে মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বিনোদপুর এলাকার রবি ও সিরাজুল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) বিভাগের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রী, ছাত্র শোভন ও লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষর্থী নাইমুল ইসলাম নাঈম।

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, রোববার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেট সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে আমরা কয়েকজন বন্ধুমিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় আমাদের সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবীকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন। আমরা এর প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে তারা আমাদের উপর উল্টো চড়াও হয়। মারধরে নাঈম কানে এবং শোভন মাথায় আঘাত পায়। তারা স্ট্যাম্প দিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে দুজন আমাদের দুই বান্ধবীর ওড়না কেড়ে নেয় এবং তাদের শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আশেপাশের লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়।

এদিকে, মারধরের ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল করেছে আইবিএর শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে তারা ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা বলেন, বলেন, ‘স্থানীয় বখাটেরা প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও মারধর করেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেও কোনো লাভ হয়নি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, মতিহার থানায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের সাথে কথা বলেছি। প্রধান আসামীসহ দুইজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •