বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে বাহারি ফুল

তন্ময় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বৃক্ষ রাজীর শাখায়িত পলস্নবে ফোঁটা ফুলের বাহারী রঙ বর্ণ গন্ধ সুভাস মাধুর্য ও দৃষ্টি নন্দনতা আমাদের প্রকৃতি পরিবেশকে দিয়েছে এক অনাবিল মায়াময় রূপ । যেরূপের মুগ্ধতায় মুগ্ধ হয়ে কবি লিখেছেন কাব্য ভাষায় তার উক্তি, চিত্রকার তার রঙ তুলির ছোঁয়ায় এঁকেছেন তার প্রতিচ্ছবি, আলোক চিত্রী ধারণ করেছেন তার ক্যামেরার ফ্রেমে ও প্রকৃতির প্রেমী মন ঘুরে বেড়িয়েছেন দিগমেত্মর শেষ সীমানায়।

দিগন্ত জুড়া মায়াময় সবুজ প্রামত্মরের অনাবিল ঘাস, মাটির গন্ধ, পাখির কলতান, বহতা নদী ও ঝর্ণার স্রোতধারার মাঝে আমরা প্রতিনিয়ত খুজে পাই অফুরমত্ম জীবনী শক্তি। এ প্রকৃতির অফুরমত্ম সৌন্দর্য ভান্ডারের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ফুল। আর এ ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বিশ্বজনীন। ফুল নামটি মুখে উচ্চাণের সাথে সাথে ছোট-বড়, ধর্ম গোত্র বর্ণ নির্বিশেষে সার্বজনীন ভাবে সর্ব সকল মানুষের কাছে এ এক অনন্য প্রবিত্র স্বর্গীয় অনুভুতি। বিশ্বের সকল ভাষা ভাষি, সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সকল প্রকার শুভ ও পবিত্রতার কার্য সম্পাদনে ফুলকে বেছে নিয়েছে আপন থেকে অতি আপন নিয়মে । ফুলের উপস্থিতি ব্যতিত কোন অনুষ্ঠান-ই যেন জমেনা।

আমাদের দেশের ঋতু বৈচিত্র মাটি আবহাওয়া জলবায়ু ভূমি শ্রেণী বিন্নাস, জল-স্থলে যেখানেই যেপ্রকার প্রকৃতিগত অবস্থান দিক রয়েছে সেখানে চোখ মেলে দেখতে পাওয়া যায় বার মাস নানান রঙ গন্ধ সুভাসের কতইনা ফুলের সমাহার । ফুল গবেষকদের গবেষনা মতে আমাদের দেশে প্রায় পাঁচ হাজার প্রজাতির ফুল ফুটে।

এ বিপুল সমাহারের মাঝ থেকে কোন কোন ফুলকে আমরা বেছে নিয়েছি্ একটু বেশী কদর হিসেবে, কোন কোন ফুলকে একটু কম, আবার আজো কোন কোন ফুলকে তেমন মূল্যায়িত করা হয়নি, যাকে আমরা বনু ফুল হিসেবে আখ্যায়িত করি । এরই মাঝে আবার অনেক বিদেশী ফুল ইতিমধ্যে আমাদের দেশে স্থান করে নিয়েছে । ফুলের ব্যবহার আকর্ষণীয় রঙ রূপ গন্ধ, সুভাস, বৈশিষ্ট গত ভিন্নতার জন্য অনেকাংশে প্রিয়তা পাওয়ার কারণ বলে চিহ্নীত করা হয়।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ফুটেছে নানান ধরণের ফুল। বিভিন্ন ধরণের এবং বাহারি রঙের শতশত ফুল ভরিয়ে দিচ্ছে ক্যাম্পাসের সকলের মন। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছও বেড়ে উঠছে এই ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগেট, মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা, ভিসির বাংলো, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, মেইন গেট সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত রাস্তার পাশে রয়েছে বিভিন্ন জাতের বাহারি সব ফুল। এই সব ফুল দেখতে বাইরে থেকে অনেক মানুষ আসছে এবং তাঁরা ফুলের সাথে ছবি তুলতে মিস করছে না।

F3বালুময় এই ভূমিতে ফুল ফোটানোর মত অসাধ্য এই কাজটি করেছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.খোন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিন । শত ব্যস্ততার মাঝেও যার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠে বিশাল এক সবুজের সমারোহ । নানান রঙের ফুলে কি সুন্দরই না লাগছে একবছর আগের সেই বালুময় ভূমিটাকে।

গত ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর ড.খোন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিন । তারপর থেকে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় নতুন করে মাটি ভরাট করে ক্যাম্পাসে বনায়ন সৃষ্টির উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডঃ খোন্দকার নাসিরউদ্দিন । বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাসমূহের দুই পাশে মাটি ফেলে নতুন করে ফুল গাছ লাগানো ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর সামনে অবস্থিত ফাকা জায়গায় ফুলের বাগান সৃষ্টি করা ছিল উপাচার্য মহোদয়ের প্রধান কাজ।

৫৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুইটি বাবলা গাছ ও কয়েকটি খেজুর গাছ ব্যাতিত চোখে পড়ার মত তেমন কোন গাছ ছিল না । কিন্তু এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে বেশ কিছু গাছ বেড়ে উঠেছে । গাছ না হওয়ার প্রধান কারণ, কৃষি জমিতে বালু ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো দাড় করানো হয়েছে । তাই সবার বিশ্বাস ছিল বালুর উপর গাছপালা লাগানো খুব একটা ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। যেমনটি ব্যর্থ উদ্যোগ এর আগে ২০১৩ সালে নেওয়া হয়েছিলো যার ফলাফল শুন্য।

এখানে বনায়ন সৃষ্টি অত্যান্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর চার বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বনায়ন সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি । বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর দুই পাশে ওষধি গাছ, ফলদ বৃক্ষ যেমন আম,খেজুর ,নারিকেল ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: