কুড়িগ্রামে বাড়ছে কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হচ্ছে না মানুষজন। এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

গত ৩দিন ধরে দিনের বেশির ভাগ সময় সুর্যের দেখা না মেলায় বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমুল মানুষসহ শিশু ও বৃদ্ধরা। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৫৬ জন রোগী। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে গবাদি পশুরাও। অনেকে খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। উত্তরীয় হিমেল হওয়ায় ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কাজে যেতে পারছে না শ্রমজীবি মানুষেরা। বোরো মৌসুম শুরু হলেও কনকনে ঠান্ডায় মাঠে কাজ করতে পারছে না কৃষি শ্রমিকরা। অনেকে কাজের সন্ধানে বের হলেও কাজ জুটছে না তাদের।

কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার মন্ডলের হাট এলাকার এরশাদুল আলম জানান, এবছরের সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা পড়েছে। ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। কাজতো করতে পারছি না। তার উপর গরম কাপড়ের অভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিপদে আছি।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গত ৩ দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ইনডোরে ডায়রিয়ায় ৩০ ও নিউমোনিয়ায় ৩০ শিশুসহ মোট ১৫৬ জনকে ও আউটডোরে প্রতিদিন আড়াইশ থেকে ৩শ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, আজ এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ অবস্থা আরো দু-একদিন চলতে পারে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •