উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।
আজ রবিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষদ ভবন ঘুরে মুরাদ চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা আগামী ৯ জানুয়ারি একই দাবিতে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, ‘সারা দেশে দুঃশাসনের যে রাজনীতি চলছে তার অংশ হিসেবে প্রত্যেকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাত্রলীগ দ্বারা দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমরা দেখেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিভাবে পাবলিকের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে ছাত্রলীগকে প্রদান করেছেন। সুতরাং দুর্নীতিবাজ উপাচার্য ও তার সহযোগীদের এই ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়ন করার মাধ্যমেই জাহাঙ্গীরনগর কলঙ্কমুক্ত হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার কোন বিচার হয়নি। আমরা যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলাম সেটার কোনো তদন্ত হয়নি। আমরা বারবার শুনছি ঘটনার তদন্ত চলছে কিন্তু তদন্তের কোনো আলামত দেখছি না। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে অনুরোধ করছি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করুন।’
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি যেহেতু মান্ত্রীমহোদয় আশ্বাস দিয়েছেন তদন্ত শুরু হয়েছে। আর তাই আমরা ধীর গতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা দুর্নীতির সব প্রমাণপত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছি। কিন্তু তদন্তের ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। আশা করছি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে এবং উপাচার্যকে অপসারণ করে এই জাহাঙ্গীরনগর দুর্নীতি মুক্ত হবে।’
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে আবাসিক হলের কাজের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটিসহ মোট দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এরপর থেকেই উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। গত চার মাস যাবৎ এ উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা।

