গাইবান্ধায় তীব্র শীতের সাথে বইছে হিমেল হাওয়া

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পড়েছে গোটা গাইবান্ধা জেলা। সেই সাথে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। হঠাৎ করে তীব্র শীতের কারণে জেলার খেটে খাওয়া মানুষসহ পশু পাখিরাও চরম বিপাকে পড়েছে। সন্ধ্যা থেকে ভোর রাতেও গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মত ঝড়েছে কুয়াশা।

এদিকে, হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র শীতে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নেওয়া এবং চরাঞ্চলের মানুষরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে। শীতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এতে কষ্ট পাচ্ছে বেশি। পাশাপাশি শিশুসহ বৃদ্ধরা শীত জনিত রোগে ভুগছেন।
ঘন কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ অন্য নদ-নদীতে নৌ চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। ফলে মূল ভূমির সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঘন কুয়াশার কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরাঞ্চলের মানুষরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়ে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহনে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

অপরদিকে, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শহরের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে এখন মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষে করা যাচ্ছে। এই সুযোগে গাউন মার্কেট ও গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ব্যবসায়িরা কাপড়ের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়েছে। ফলে অর্থাভাবে দরিদ্র মানুষদের পক্ষে শীতের কাপড় সংগ্রহ করা খুব কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে।

রিকশা চালক নজির হোসেন জানান, রিক্সাভ্যান চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় ঠান্ডার পরিমাণ দ্বিগুন বেড়ে গেছে। ফলে রিকশা ভ্যান নিয়ে বাইরে যেতে পারছি না। এ অবস্থায় সুদের ওপর টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে আমাকে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু বর্মন জানান, তীব্র শীতের কারণে সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউিনিটি ক্লিনিকলোতে শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, মাথা ব্যাথাসহ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে এসব রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আনিছা করিম জানান, শীতজনিত কারণে মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্ত: বিভাগ ও বহি:বিভাগে গত ৪৮ ঘন্টায় শীতজনিত রোগে অসুস্থ্য হয়ে অর্ধশতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ জানান, হঠাৎ করে শীতের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। আমারা ইতোমধ্যে জেলার খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের দুস্থ্য মানুষের মধ্যে কয়েক দফায় শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেছি। তবে আরও শীতবস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া জেলার দরিদ্র মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: