শঙ্খনদীর চরে পেঁয়াজ চাষে কৃষকের মুখে হাসি
চট্টগ্রামের প্রতিনিধি:
শঙ্খনদীর চরে পেঁয়াজ চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পেঁয়াজের ফলন ভাল হওয়ায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের দাম ও চাহিদা থাকায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন চট্টগ্রামের শঙ্খনদীর চরাঞ্ছলের কৃষকেরা।
জানা যায়, আগের মৌসুমগুলোতে শঙ্খনদীর দুই তীরের চরে বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজির চাষ করা হতো। চলতি মৌসুমে বাজারে পেঁয়াজের ব্যাপক সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এই চরের চাষিরা। চরের এই অঞ্চল আগে থেকেই সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ছিল, তবে দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা বাড়ায় এই মৌসুমে কৃষকেরা পেঁয়াজের চাষে ঝুঁকেছেন। আর এতে বেশ সাফল্য পেয়েছেন তারা।
শঙ্খচরের এমনই একজন কৃষক হলেন জাফর আহমদ। বিগত মৌসুমগুলোতে তিনি এই চরে চাষ করতেন বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজির। তবে বর্তমান মৌসুমে অধিক লাভের আশায় পেঁয়াজ চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে পেঁয়াজের চাষ করে বেশ লাভবান হবেন তিনি।
জাফর আহমদ জানান, অনেক বছর আগে এই চরের বিভিন্ন এলাকায় শাক-সবজির পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষ করতেন অনেকেই। তবে এখন আর কেউ সেভাবে পেঁয়াজ চাষ করছেন না। আমাদের কৃষকরা যদি অন্যান্য ফসল চাষের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষ করেন তাহলে আমাদের আর পেঁয়াজের সংকট হবে না।
তিনি আরও জানান, দেশের বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন চাষিরা পেঁয়াজের চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা যদি আগে থেকেই কিছু কিছু জমিতে পেঁয়াজের চাষ করতেন তাহলে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারতেন। তাই এই মৌসুমে অন্য সবজি চাষের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষ করেছি। আশা করছি এই পেঁয়াজ থেকে বেশ লাভবান হব।
বাজারে পেঁয়াজের উচ্চ মূল্য দেখে পরীক্ষামূলকভাবে পেঁয়াজ চাষের জন্য বীজ সংগ্রহ করি। পরে আমার চাষ করা শিম ও টমেটো ক্ষেতের মাঝের জমিতে পেঁয়াজের সেই বীজগুলো বপন করি। পেঁয়াজের বীজ বপনের কিছুদিন পরই গাছ বের হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ভাল ফলন ও এ থেকে লাভের আশা করছি।

