প্রণোদনা প্যাকেজে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের অন্তর্ভূক্তি প্রয়োজন

কৃষি ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন, যা জিডিপির ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাতকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

করোনাভাইরাসের আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করা প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে আবাসন শিল্পে বিনিয়োগকারীদের তাৎক্ষণিক যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

কৃষি খাতে প্রণোদনা জরুরী

করোনার প্রকোপের মধ্যে অন্যান্য খাতের মতো কৃষিখাতেও পর্যাপ্ত প্রণোদনা দিয়ে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি।

দেশে কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে এই খাতে প্রণোদণা জরুরী হয়ে পড়েছে। কৃষক, ক্ষুদ্র খামারিদের স্বার্থে এবং দেশের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে কৃষির সকল খাতে বিশেষ করে পোল্ট্রি খাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রণোদনা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ।

বাংলাদেশে অর্থনীতির চাকা সচলের জন্য রপ্তানি তথা গার্মেন্টসের পরেই যে ইন্ডাস্ট্রির অবদান সেটা হচ্ছে পোল্ট্রি/লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রি।

গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান হয় ৪০ লাখ মানুষের। অন্যদিকে পোল্ট্রি শিল্পে কর্মসংস্থান হয় ৭০ লাখ লোকের। গার্মেন্টস শিল্পে উদ্যোক্তা ২০ হাজার আর পোল্ট্রি শিল্পে ২০ লাখ। জিডিপি-তে গার্মেন্টস শিল্পের অবদান ১৩% হলেও, পোল্ট্রি শিল্পেরও ৪% অবদান রয়েছে।

সাম্প্রতিক মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমাদের পোল্ট্রি ও লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রি আজ ক্রান্তিকাল পার করছে। ব্রয়লার মাংসের দাম মাত্র ৬০ টাকা কেজি, ডিম ৬০ টাকা ডজন, দুধ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। একদিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্য ২-৭ টাকায়। যেখানে প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদন ব্যয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করার সুযোগও নেই।

বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মহা ক্রান্তিকালের সম্মুখীন। প্রতিদিন সারা দেশে ত্রিশ লক্ষ ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উৎপাদিত বিপুল পরিমান বাচ্চা অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে, তাই ব্রিডারস কোম্পানীগুলো কোটি কোটি টাকা প্রতিদিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বর্তমানে পোল্ট্রি ফিডের উপকরণের দুস্প্রাপ্যতা ও উচ্চ মূল্যের কারণে ফিড মিলসমূহকে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে ফিড বিক্রয় করতে হচ্ছে। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে অচিরেই বহু ফিড মিল বন্ধ হয়ে যাবে।

কৃষক খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছে ফসল কেটে ঘরে উঠানো নিয়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যারা গ্রামে বসবাস করে তাদের প্রণোদনার আওতায় এনে ফসল ঘরে উঠানোর নিশ্চয়তা বিধান করা প্রয়োজন। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠির জন্য করোনা ভাইরাসজনিত রোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি প্রয়োজন। ধান কাটার মৌসুমের শুরু থেকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি পাঁচ দফা দাবি তুলেছে। এগুলো হলো- কৃষকদের সরাসরি প্রণোদনা প্রদান, গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা গ্রহণ, ভূমিহীন-দরিদ্র কৃষকদের পর্যাপ্ত খাদ্য প্রদান, ইরি-বোরো ফসল কাটার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পেঁয়াজ, ভুট্টা, সকল প্রকার সবজি, ফল ও ধানসহ অন্য ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: